
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি রাস্তাঘাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গ্রামের প্রধান সড়ক ও একমাত্র মসজিদে যাওয়ার পথটি বহুদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।নির্বাচনের সময় প্রার্থীগণ মিথ্যা আশ্বাস দিলেও নির্বাচন শেষে উল্টা হুমকি-ধামকি শুনতে হয় গ্রামবাসীকে। কারন হিসাবে বিগত দিনে এই ওয়ার্ড থেকে কখনোই রাজনৈতিক সুবিধা করতে পারেনি সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। যার ফল হিসাবে অবহেলিত এই অঞ্চল । ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমেরিকান প্রবাসী উপজেলার একমাত্র বৃদ্ধাশ্রম আসাননগর চর-শ্রীরামপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করেছ কিন্তু রাস্তার অভাবে আজও আলোর মুখ দেখছে না এই বৃদ্ধাশ্রমটি। ২০১৭ সালে আসাননগর -বকসীপুর নামক স্থানে কুমার নদের একটি ব্রীজ তৈরী হয়েছে যেটা রাস্তার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার নৌকায় গাঁ ভাসিয়ে ইউনিয়নে কিছুটা উন্নয়ন হলেও অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছে এই গ্রামের মানুষদের। ফলে নিজেদের দায় নিজেরাই কাঁধেতুলে সংস্কারে নেমে পড়েছিল একদল তরুন।কখনও ইটের সুরকি কখনও বালি দিয়ে কাঁদাময় রাস্তা নিবারন করলেও বড় বড় কাজগুলো ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু দিন বদলেছে, উপজেলাব্যাপী সংস্কারের হাওয়া লাগলেও কর্তৃপক্ষের মনে লাগেনি অনুভুতির ছোঁয়া । সেবার মূল উদ্দেশ্যই যখন মানুষ ভুলে যায়, বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিরা, সৃষ্টির সেবা যখন ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়ে যায়, ধর্ম যখন ব্যবসার মূল্যবান পণ্য হয়ে যায়, তখন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে কি করে।
গ্রামের বিভিন্ন স্থানে কোথাও মাটি, কেথাও ভাঙা কংক্রিটের স্তূপ পড়ে আছে। বর্ষার সময় কাদা-পানিতে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর হয়ে যায়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রতি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা আশ্বাস দিলেও নির্বাচন শেষে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে যান। বরং অনেক সময় উল্টো হুমকি-ধামকির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক সুবিধা না পাওয়ায় আসাননগর গ্রামটি বছরের পর বছর উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, “আমরা বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি, কিন্তু এপর্যন্ত কেউ রাস্তাটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”বাধ্য হয়ে তরুণদের একদল স্বেচ্ছাশ্রমে মাঝে মাঝে ইটের সুরকি বা বালু ফেলে রাস্তা মেরামতের চেষ্টা করলেও বড় কাজের ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষার মৌসুমে কাদা-পানিতে ভরে যায় গোটা রাস্তা, ফলে হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর হয়ে ওঠে।
গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ভাঙা কংক্রিটের স্তূপ, কোথাও আবার কাদা ও জলাবদ্ধতার চিত্র। স্কুলে যাওয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে নামাজে যাওয়া মুসল্লিদেরও পড়তে হয় দুর্ভোগে।
এ বিষয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা-এর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বরাবরের মতো আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসীর দাবি, যেহেতু সময় বহমান অবশেষে প্রতিক্ষার অবসান হবেই।প্রশাসন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত আসাননগর গ্রামে যেন ফিরে পাই আলোর দেখা—এই প্রত্যাশাই তাদের।










