নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় নারীকে ব্যবহার করে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টাকালে প্রতারক চক্রের মূলহোতা খালিদ হোসেন (আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী) ও তার নারী সহযোগী রোজা ইসলাম জনতার হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শ্যাকড়া তলার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটক খালিদ হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়ার বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার মাছ বিক্রেতা শফিউল ইসলামের জামাই। তার সহযোগী রোজা ইসলাম চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালিদ হোসেন নিজেকে “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান” পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছিলেন। কখনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আবার কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে তিনি নানা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এলাকায় তেমন প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন এবং সেখানেও প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন একাধিকবার।
সর্বশেষ তিনি নতুন কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করেন—এক নারী সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মাদক ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার একটি নির্জন বাড়িতে ফাঁদ পাততে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এসময় তার কাছ থেকে এক বোতল নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খালিদ ও রোজা ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের বক্তব্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান,“খালিদ নামের ওই ব্যক্তি ও এক নারীকে বাগানপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। খালিদ অতীতে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে থানায় এসে নানা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”নারী সহযোগীর বক্তব্য
অভিযুক্ত নারী রোজা ইসলাম বলেন, খালিদের সঙ্গে দিন পাঁচেক আগে পরিচয়। কয়েকজন ছেলে আমাকে বিরক্ত করতো। সে পরামর্শ দেয়, তাদের ডেকে নিয়ে এসে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করতে হবে। তার কথামতো আমি আজ সন্ধ্যায় এই বাড়িতে আসি।” এলাকাবাসীর অভিযোগ;এলাকাবাসীরা জানান, খালিদ হোসেন নিজেকে মানবাধিকার সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও অনুরূপ অভিযোগ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।