আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ, ১৬ অক্টোবর — উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মোট ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৯ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থী। তবে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর ২০২৫ সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই, যেখানে ফলাফল কেবল সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং শিক্ষার্থীর শেখার প্রকৃত মূল্যায়ন করবে। যে ফলাফল শিক্ষার্থীর শেখাকে সত্যিকারের মূল্যায়ন করে, সেটিই হোক আমাদের সাফল্যের মানদণ্ড।”
বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ১৫টি কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩২ জন। এর মধ্যে জামালপুর জেলার চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং এস এম শিখা মুখলেসুর রহমান কলেজ; ময়মনসিংহ জেলার ভূটিয়ারকোনা আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বারিল্লা কে.এ. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিটি রয়্যাল কলেজ, ত্রিশাল আইডিয়াল কলেজ, গৌরীপুর পাবলিক কলেজ, প্রিন্সিপাল পারভীন জাকির কলেজ এবং আলাপসিংহ কলেজের কেউই পাস করতে পারেননি।
এছাড়া নেত্রকোনা জেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, জনতা আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য, জোবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ; এবং শেরপুর জেলার হিরন্ময়ী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মনমথ দে কলেজেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের নিবিড় বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছি। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। ফল প্রকাশ করেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির