
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে স্থানীয় কৃষক, খামারি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রাণিসম্পদ সেবায় ঘুষ বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, এবং খামারিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে সাধারণ খামারিরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র খামারিরা বলেন, ডা. মাহমুদুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাণিসম্পদ অফিসে সেবার মান নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। আগে প্রতি মাসে সেমিনার, পশু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত হতো—কিন্তু এখন সবকিছু বন্ধ।
খামারি জান্নাতুল নুপুর বলেন,“আগে আমাদের গবাদি পশু পালনে নানা পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হতো। এখন এসব কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছেন বর্তমান কর্মকর্তা। তাই সেবা চালুর দাবিতে আজকের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।”আরেকজন ক্ষুব্ধ খামারি বলেন,“আমরা ছোট মানুষ, গরু-ছাগলই আমাদের জীবিকা। চিকিৎসা নিতে অফিসে গেলে তাঁকে পাই না। আগে যিনি ছিলেন, তিনি নিজে হাতে চিকিৎসা দিতেন। এখন এক বছরেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. এ.এন.এম. মোস্তাকিম মুকুট সাংবাদিকদের বলেন,
“আগের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খুব আন্তরিকভাবে কাজ করতেন। অফিসের স্টাফদের একসঙ্গে নিয়ে সেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। কিন্তু নতুন কর্মকর্তার সময় থেকে সেই ধারাবাহিকতা নেই। তিনি একা একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. এস. এম. মাহমুদুল হক বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের অফিসে জনবল কম, তাই সব জায়গায় একসাথে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। সরকারি মিটিং ও অন্যান্য কাজের কারণে আমাকে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। তাছাড়া, আমার কাছে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়নি।”প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের কারণে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি আমি শুনেছি। কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর স্বতন্ত্র অফিস হলেও আমরা প্রশাসনিকভাবে যতটুকু পারি, তা করব।”মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ, সেবামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালু ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।










