
অন্তর্বর্তী সরকারকেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও এর ভিত্তিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে – খেলাফত মজলিস খেলাফত মজলিসের প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণাসহ ৬ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এর আগে সকাল ১০টায় একই হলে খেলাফত মজলিস মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, ডা. এ এ তাওসিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা শামসুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক মাওলানা এ এস এম খুরশিদ আলম, মাওলানা শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব আলম, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সালেহীন, কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন— সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। খেলাফত মজলিসের আহ্বানে আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আজকের ব্রিফিংয়ের শুরুতেই ইসরাইলি গণহত্যার শিকার গাজাবাসীর বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ ভাঙতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীদের গাজামুখী “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” নৌবহরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা ও কয়েক শত মানবাধিকার কর্মীকে অপহরণের তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক মানবাধিকার কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকর বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই। প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক শহীদের আত্মদান ও হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল খুনি ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই জনআকাঙ্ক্ষা পূরণই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যদিও পতিত ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার শুরু হয়েছে, তবে তা কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। আমরা বারবার তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরাও চাই রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এ লক্ষ্যে ৩০০ আসনে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে এবং ইতোমধ্যেই ২৫৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার, তা এখনও তৈরি হয়নি। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। দেশের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— নির্বাচনের পূর্বে যে সংস্কারের দাবি ছিল, তার বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কার চূড়ান্ত করেছে, তা “জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫” নামে পরিচিত। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশ ও জাতির স্বার্থে এই অনিশ্চয়তা অবিলম্বে দূর করা জরুরি। অতএব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে। অবিলম্বে সনদ ঘোষণা করে তাকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
আমাদের প্রস্তাব—
১. জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর দুই মাসের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে এটিকে সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদা প্রদান করা।
অথবা
২. রাষ্ট্রীয় নীতি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা। সংবিধান-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ঘোষণার মাধ্যমে কার্যকর করা। তবে শর্ত হলো, আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে তা বিনা পরিবর্তনে অনুমোদন করতে সংসদ সদস্যগণ বাধ্য থাকবেন— এ মর্মে সব দলের লিখিত প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।
আমাদের এ প্রস্তাব দেশের আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।
কিন্তু সরকার এখনো এসব দাবিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছি—
১. ৫–৯ অক্টোবর : গণসংযোগ
২. ১০ অক্টোবর : ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে গণমিছিল
৩. ১২ অক্টোবর : সারাদেশে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান
এ ছাড়া ১৫–৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে সংসদীয় আসনভিত্তিক পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে।
আমরা দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।









