সাগর আহমেদ জজ : নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা-ধোবাউড়া) আসনের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলীর নিজ বাসভবনে এ আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান তালুকদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মরহুমের সহধর্মিণী অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা। এছাড়া বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, ডা. মোহাম্মদ আলী শুধু একজন সফল জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের প্রিয় নেতা। চিকিৎসক হিসেবে তিনি দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন এবং এলাকার শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী বলেন, “ডা. মোহাম্মদ আলী জীবদ্দশায় জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, মানবপ্রেমিক এবং এলাকার উন্নয়নের অকৃত্রিম বন্ধু। তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।” মুখ্য আলোচক ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা বলেন, “ডা. মোহাম্মদ আলীকে হারানো শুধু বিএনপির ক্ষতি নয়, এটি সমগ্র নেত্রকোনা-৫ আসনের জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।” পরে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। এছাড়া বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের নেতৃবৃন্দ তাঁর কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, ডা. মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর ৭০ বছর বয়সে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি থেকে একাধারে তিনবার (৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম) জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পূর্বধলা-ধোবাউড়ার গণমানুষের নেতা হিসেবে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ‘উন্নয়নের রূপকার’ খেতাব লাভ করেন। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্বধলায় রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ডা. মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়।