
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া বাজারে “ঘোষ ফ্লাওয়ার মিল” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে চলছে ভয়ঙ্কর প্রতারণা। কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেদারসে নকল পশুখাদ্য ভুসি তৈরি করে বাজারজাত করছে মিল কর্তৃপক্ষ। অভিযানে গিয়ে মিলের ভেতরে হাতেনাতে ধরা পড়ে এই ভেজাল কর্মকাণ্ড।বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোষ মিলে ভুসির সঙ্গে ধুলোবালি, খইল, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য এবং নানান অপ্রাসঙ্গিক উপাদান মিশিয়ে পশুখাদ্য তৈরি হচ্ছে। এরপর সেগুলো নতুন বস্তায় ভরে নামিদামি কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল।স্থানীয় খামারিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব ভেজাল খাদ্যের কারণে পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, মারা যাচ্ছে। কৃষক এনামুল হক বলেন— “আমরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে গরু-গাভি পালন করি। অথচ এই ভেজাল ভুসি খাওয়ানোর পর পশু অসুস্থ হয়ে যায়, কখনো মারা যায়। আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।”ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিলের মালিক নগদ অর্থ দিয়ে সংবাদটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাংবাদিকরা উৎকোচ প্রত্যাখ্যান করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।তদন্তে জানা গেছে, ঘোষ ফ্লাওয়ার মিলে কোনো সরকারি লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছ থেকেও কোনো কাগজপত্র তারা সংগ্রহ করেনি। তথাপি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্নজনকে ‘ম্যানেজ’ করেই বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে ভেজাল ভুসি উৎপাদন চলছে।এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। কোনো অনুমোদন ছাড়াই যদি এই কার্যক্রম চলে থাকে, তবে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মামুনুল হাসান জানান—“পূজার ছুটি শেষে অভিযানে নেমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষক-খামারিরা বলছেন, “শুধু সংবাদ প্রকাশ করলেই চলবে না, এসব প্রতারক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এমন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”আলমডাঙ্গার ঘোষ ফ্লাওয়ার মিলে নকল ভুসি উৎপাদনের ঘটনা কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতারণা নয়— এটি দেশের কৃষি, খামার ও মানুষের আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। অনুমোদনবিহীন এই প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই এখন জাতীয় পর্যায়ে সবার একমাত্র দাবি।










