
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি উপলক্ষে ৩৫টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসর্জন দেওয়া হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করে একে একে প্রতিমাগুলো শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা-পর্বের কার্যক্রম শেষ হয়। বিসর্জন উৎসবকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে আমরা মিটিং করেছি। প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়েছি। সবার সহযোগিতায় এবারের প্রতিমা বিসর্জন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন।” আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম জানান পুলিশ , প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থান করে ভক্তদের স্বস্তি নিশ্চিত করেন। আলমডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমল কুমার বিশ্বাস বলেন, এইবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা আনুষ্ঠানিকভাবে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। সবাই আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন।” বিসর্জন যাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্ত শ্রী সমীর কুমার দে বলেন, আমরা প্রতি বছর বিসর্জনে অংশ নিই, তবে এবার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ছিল সবচেয়ে ভালো। নির্বিঘ্নে দেবীকে বিদায় জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। অন্য এক ভক্ত মিতা রানী সাহা বলেন, “মণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসে মনে হয়েছে সত্যিই উৎসব হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন যেভাবে নজরদারি করেছে, তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে কোনো ভয় ছিল না।” আরেকজন তরুণ ভক্ত অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা চাই আগামী বছরগুলোতেও এভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা ও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হোক। সবাই মিলে সম্প্রীতির পরিবেশে উৎসব পালন করাটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।” স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আলমডাঙ্গা জুড়ে বিসর্জন উৎসব উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষ স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন। ভক্তরা দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য।









