জাতিসংঘ সদরদপ্তরে (UNHQs) আয়োজিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যা শুরুর আট বছর পার হলেও রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে, অথচ এ সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তহবিল মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “রোহিঙ্গা সঙ্কটের সূচনা মিয়ানমার থেকেই, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমার সরকার ও আরাকান সেনাবাহিনীর উপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয় এবং রাখাইনে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু হয়। এটিই একমাত্র সমস্যার স্থায়ী সমাধান।”
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়ের ফলে আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নারকো-প্রবাহ ও সীমান্ত অপরাধ আমাদের সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের মতো উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে রাখার সামর্থ্য রাখি না।”
প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন—
১. রাখাইনে ন্যায্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ প্রণয়ন।
২. মিয়ানমার সরকার ও আরাকান সেনাবাহিনীর উপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করা এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
৩. রাখাইনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা একত্রিত করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক নাগরিক উপস্থিতি স্থাপন।
৪. রাখাইন সমাজ ও শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের টেকসই একীভূতকরণের জন্য আস্থা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ।
৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (Joint Response Plan) সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নে দাতাদের পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করা।
৬. জবাবদিহিতা ও পুনর্গঠনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
৭. নারকো-অর্থনীতি ধ্বংস ও সীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা থেকে বিশ্ব আর বিরত রাখতে পারবে না। আসুন, আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে, এই সংকট সমাধানে একসাথে কাজ করব। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”