
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার খবর ছড়ালেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা হাতে পায়নি। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর হামাস এ তথ্য নিশ্চিত করে।
ট্রাম্পের আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প ৮ মুসলিম ও আরব দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে এবং এটি ‘প্রায় সম্পন্ন’।
পরে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, “গাজা প্রসঙ্গে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করছি। টানা চার দিন ধরে তীব্র আলোচনা চলছে এবং সফল চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং হামাসও এ ব্যাপারে অবগত। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “মনে হচ্ছে গাজা নিয়ে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে।” তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা সময়সূচি প্রকাশ করেননি।
হারেৎজের প্রতিবেদন
হারেৎজ জানায়, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় শত শত ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি ও গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হামাস সব ইসরাইলি জিম্মি মুক্তিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান, এবং ইসরাইলের গাজা ভূখণ্ড দখল বা সেখানকার অধিবাসীদের উচ্ছেদ না করার বিষয়ে সমঝোতা রয়েছে।
হামাসের প্রতিক্রিয়া
তবে এ খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামাসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “হামাসের কাছে কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি।” তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ট্রাম্প যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।
গাজায় চলমান হামলা
এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার খবরের মাঝেই গাজায় ইসরাইলি দমনপীড়ন থেমে নেই। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি বিমান ও গোলাবর্ষণে অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইসরাইলের ঘোষিত তথাকথিত ‘নিরাপদ এলাকায়’ আশ্রয় নিয়েছিলেন।










