
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির বলেছেন, ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ ছাড়া বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে যেমন আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, স্বাধীনতার পরও সেই একই আইনে রাষ্ট্র চালানো হচ্ছে। মানুষের তৈরি আইনে বৈষম্য দূর না হয়ে বরং বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-১০ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত “নমিনীর উন্নয়ন ভাবনা” শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও সুধী সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুস সবুর ফকির বলেন, “ইসলামই একমাত্র ব্যবস্থা যেখানে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম সকল নাগরিককে সমান অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে। জনগণ যদি জামায়াতকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়। অথচ জামায়াতে ইসলামীতে জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের ওয়ার্ড পর্যায়ের মনোনয়নেও কোনো বাণিজ্য হয় না। তিনি বলেন, “টাকার বিনিময়ে যারা প্রার্থী হন, তারা ক্ষমতায় বসে দুর্নীতি ও লুটপাটে মেতে ওঠে। এ কারণেই দেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব দরবারে টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।” এ সময় তিনি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশের শুরুতে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার নিজের উন্নয়ন ভাবনা উপস্থাপন করেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণ বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ দেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে আসনটির উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসনের পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী পরিচালক শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ, আসন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদ, এডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, থানা আমীর হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান খান, জাহিনুর রহমান, আখতারুল আলম সোহেল, মাহফুজ আলম, মাহাবুবুর রশীদ প্রমুখ।










