শাল্লায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ পূজামণ্ডপে কড়া নজরদারিতে প্রশাসন

তৌফিকুর রহমান তাহের : শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সুনামগঞ্জের শাল্লায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। রঙতুলির ছোঁয়া আর সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও শিল্পীরা। দেবী দুর্গা মা আসছেন জগতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এমনটাই বিশ্বাস করেন। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে এ দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয় মহালয়ার মাধ্যমে। ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমী, ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।এবার সুনামগঞ্জ জেলায় ৪২৪টি পূজো মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে। শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৩২টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আটগাঁও ইউনিয়নে ৮টি, হবিবপুর ইউনিয়নে ১২টি, বাহাড়া ইউনিয়নে ১০টি, শাল্লা ইউনিয়নে ২টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। শাল্লা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বলেন, বিগত বছর প্রায় ২৫টি পূজামণ্ডপে সিসি টিভি ক্যামেরা ছিল। এবছর কিছু সিসি টিভি ক্যামেরা বিকল আছে যা সংশোধনের জন্য আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলছি। সিসি টিভি ক্যামেরা থাকলে দুষ্কৃতকারীরা ভয়ে ভীত থাকে, পূজা পরিচালনায় কোথাও বিঘ্ন ঘটলে তা ধরা পরে। ভোগ বিতরণ, আরতী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শাল্লায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আয়োজকরা পূজা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে অপতৎপরতা চালায়। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নির্দেশ আছে সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতা রুখে দিতে বিএনপি প্রতিটি কর্মী অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করার। তাই শাল্লা উপজেলা প্রতিটি পূজামণ্ডপে যুবদলের নেতাকর্মীদের নজর থাকবে যাতে কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে। শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে স্থায়ীভাবে ১জন পুলিশ, ৬জন আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেই সাথে ৪টি ইউনিয়নে বিট অফিসার ও পুলিশ নিয়ে টহলটিম মাঠে কাজ করবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবে। এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, পূজোর আগেই প্রতিটি পূজামন্ডপের সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা করা হয়েছে। মন্ডপে সর্বক্ষণ পুলিশ প্রশাসন নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031