
জীবননগর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের ফারহানা আক্তার শারমিন (২৮) স্বামী আহসান হাবিব আজানসহ দেড় মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে সদর উপজেলার ঝাঁজরি গ্রামের খোকনের ছেলে সাব্বির হোসেনকে বিয়ে করেন শারমিন। সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। তবে সাব্বিরের বন্ধু মিনহাজ ওরফে মিনা মেম্বারের ছেলে আহসান হাবিব আজানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রায় চার মাস আগে সাব্বিরকে তালাক দিয়ে শারমিন বিয়ে করেন আজানকে।
গত ১ আগস্ট সকালে ঝিনাইদহে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শারমিনকে ভাই মেহেদী হাসান পৌঁছে দেন। বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় তার। এরপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি শারমিন ও তার স্বামীর। পরিবারের অভিযোগ, থানায় জিডি ও আদালতে মামলা করেও কোনো ফল মিলছে না।
শারমিনের ভাই মেহেদী হাসান বলেন, “বোনের খোঁজে কুষ্টিয়ার কুমারখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছি। গাড়িচালক আরিফকে পুলিশ ধরলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় জিডি করেছি, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।”
শারমিনের মা হাসিনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক আর মৃত।”
বাবা শাহার আলী বলেন, “মেয়ের কী হয়েছে আমরা জানি না, শুধু মেয়েকে চাই।”
এদিকে, আহসান হাবিব আজানের বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানও সেখানে থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেও আগ্রহ দেখাননি গ্রামবাসী।
জীবননগর থানার উপপরিদর্শক কৃষ্ণপদ হালদার জানান, নিখোঁজদের কল ডিটেইলস ও লোকেশন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শারমিনের সর্বশেষ লোকেশন ঝিনাইদহ আর আজানের কুষ্টিয়ায় পাওয়া গেছে। এর পর থেকে সব ফোন বন্ধ। গাড়িচালক আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলা না থাকায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
ডিবির উপপরিদর্শক শরিয়ত উল্লাহ বলেন, “সিএনজিচালক আরিফকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার তদন্ত এখন জীবননগর থানার অধীনে রয়েছে।”
শারমিনের পরিবারের দাবি, দেড় মাসেও কোনো সন্ধান না মেলায় তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের কাছে তারা মেয়ের জীবিত বা মৃত যে কোনো অবস্থায় ফেরত চেয়েছেন।










