
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (সোমবার): দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলটির নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ (সাবেক এমপি), মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, আব্দুর রব ও মোবারক হোমাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মূসা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের অধীনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ৮৪টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ইতোমধ্যে জুলাই জাতীয় ঘোষণা ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, এই সনদকে আইনগত ভিত্তি না দিলে অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
ডা. তাহের বলেন, “আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। বিশেষ করে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও অনিয়ম বন্ধ করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। এতে মানসম্পন্ন সংসদ ও দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরি সম্ভব হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের দাবি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাই জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
এসময় তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের সকল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে জামায়াত নেতারা বলেন, “এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”










