
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভায় প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে রাতারাতি অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌর এলাকায় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা অফিসের একেবারে নিকটেই মৃত রফিক খাঁনের ছেলে হেলান উদ্দিন পৌর নির্মাণ আইন ও বিল্ডিং কোড অমান্য করে রাস্তার একেবারে গায়ে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“আশা করছি, এখন থেকে কেউ আর পৌর নির্মাণ আইন ও বিল্ডিং কোড অমান্য করবেন না। নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে অচিরেই আমরা একটি আধুনিক ও সুন্দর শহর গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।”মূলত দোকানঘরের এ নির্মাণকাজ রাস্তার সাথে লাগোয়া হওয়ায় এবং উপরের অংশ (ছাদ) বাড়িয়ে রাস্তার উপর চলে আসায় মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। মাত্র দেড় ফিট দূরত্ব রেখে এভাবে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসকের নির্দেশে কাজ বন্ধ হলেও ভবন মালিকপক্ষ শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির সুযোগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে দ্রুত অবৈধ ছাদ ঢালাই শেষ করার পরিকল্পনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার ভেতরেই প্রভাবশালী এক অশুভ শক্তির ‘ম্যানেজমেন্ট পরামর্শে’ মালিকপক্ষ এ দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যক্তি জানান,
“পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে মালিকপক্ষ শুক্র ও শনি দুই দিনের মধ্যেই দোকানঘরের ছাদ ঢালাই শেষ করার চেষ্টা করছে।” প্রশাসকের নির্দেশে কাজ বন্ধ হওয়ার পরদিনই মালিকপক্ষ ছাদ ঢালাইয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সুযোগ পেলেই রাতারাতি বা সরকারি ছুটির দিনে কাজ চালিয়ে যেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসক শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন,
“আমি গতকাল কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আজ আবার কাজ করছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সচেতন মহল মনে করছে, পৌর প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নয়, বরং নগর উন্নয়ন নীতির জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
👉 বিস্তারিত আপডেট পরবর্তী খবরে প্রকাশ করা হবে।










