
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গার হাইরোড এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসুর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল পার্কিং ও ফুটপাত দখলের অভিযোগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনকে মোট ৬,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, “আমরা প্রায়শই দেখতে পাই যে এই সড়কে যত্রতত্রভাবে মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহন পার্ক করা থাকে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারেন না, কারণ সেগুলো দখল করে রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে তাদের রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে হয়, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এই পরিস্থিতি থেকে আলমডাঙ্গাবাসীকে মুক্তি দেওয়া। আমরা চাই শহরের সাধারণ মানুষ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করুক। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সবার সচেতনতা এবং নিয়ম-কানুন মেনে চলার মানসিকতা।” পৌরসভার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং ফুটপাত দখল করে রাখা বন্ধ করতে কাজ করছি। যে নিয়ম-কানুন আছে, সে অনুযায়ী সবাইকে কাজ করতে হবে। যারা আইন ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেমনটা আপনারা দেখেছেন, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো বা যত্রতত্র পার্কিংয়ের জন্য জরিমানাও করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। হাইরোড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হই। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুলগামী বাচ্চাদেরও রাস্তার মাঝ দিয়ে হাঁটতে হয়। আজকের এই অভিযানে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” আরেকজন ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান,“ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ক্রেতারা দোকানে আসতে অসুবিধা বোধ করেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমাদের জন্যও সহায়ক হবে।”অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সদস্যরা। সহযোগিতা করেছেন পৌরসভার ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা। পৌরসভার আরও অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহায়তা করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকা শৃঙ্খলায় ফিরবে এবং জনসাধারণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।










