আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বহুল প্রত্যাশার সেই দিন আজ এসে গেছে, যা দেখবে পুরো দেশ। আইন-কানুন ও ইচ্ছা-অনিচ্ছার সব চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ শুরু হবে আজ
মঙ্গলবার সকাল ৮টায়, শিক্ষার্থীরা তাদের বৈধ প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার জন্য রায় দেওয়া শুরু করতে পারবেন এই সময় থেকে; যা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
প্রতিষ্ঠার পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে ৩৬ বার। দীর্ঘ বিরতির পর ৩৭তম বারে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অংশ নেওয়ার ঘটনা যেমন বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি তর্ক-বিতর্কের পরিসরও বাড়িয়েছে। ফলে উদার ও প্রগতিশীল চর্চার ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী-প্রার্থীদের বিপরীতে ধর্মভিত্তিক ছাত্রসংগঠনের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এক অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবারের ডাকসু ভোটকে।
‘মিনি সংসদ’ খ্যাত ডাকসু। বলা হয় ডাকসুতে দেখা যায় দেশের রাজনীতির প্রতিচ্ছবি, জাতীয় সংসদের ছায়া। ফলে এই নির্বাচনের তফসিল থেকে ভোটগ্রহণ- এই পুরো প্রক্রিয়া দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে সমান গুরুত্বে আলোচনায় এসেছে। সেটি মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু-স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ডাকসুর নেতৃত্ব নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী-ভোটারের ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ও বুথ থেকে শুরু করে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। ভোটগ্রহণের সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষার্থীদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করাসহ নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সব কিছুর মধ্যেই ছয় বছর পর ডাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিভিন্ন প্যানেল থেকে এবং স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেওয়া ডাকসু প্রার্থীদের এবারের প্রচারযজ্ঞে দেখা গেছে ভিন্নতা। আলোচনায় এসেছেন পাহাড়ি ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম প্রার্থীরা।