
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার
আন্তর্জাতিক গণিত ও জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী বাংলাদেশের ছয় কৃতী শিক্ষার্থী আজ বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
৩৬তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইবিও) ২০২৫-এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আরিজ আনাস, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী হা-মিম রহমান এবং মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী ফারাবিদ বিন ফয়সাল।
৬৬তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) ২০২৫-এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম বাকলিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জিতেন্দ্র বড়ুয়া, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী এবং ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী তাহসিন খান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সাধারণ সম্পাদক এ এ মুনির হাসান, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তারিখ আরাফাত।
প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা জানতে চান। তিনি বলেন,
“তোমাদের কথা শুনে আমি খুবই আনন্দিত। নিজেদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় এতদূর এগিয়ে আসা সত্যিই প্রশংসনীয়। তোমাদের সাফল্যে আমরা সবাই অনুপ্রাণিত।”
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার জানান, এ বছর ১১১ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকও অর্জন করেছেন। এছাড়া অনেকেই ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন। এসব সাফল্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মেধাবীদের জন্য আন্তর্জাতিক দরজা খুলে দিচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, দুর্গম অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে আসে। কিন্তু আর্থিক অসুবিধার কারণে অনেকেই ঢাকায় এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এসব অলিম্পিয়াড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ জানান, এ বছর প্রথম ধাপে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ধাপে ধাপে বাছাই প্রক্রিয়ার পর ছয়জনকে চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন ফি, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ নিজেদের উদ্যোগে যোগাড় করতে হয়েছে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ড. রাখহরি সরকার। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বাছাই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আসরে পাঠানো পর্যন্ত সবকিছুই স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টা ও ব্যক্তিগত চাঁদার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
“আপনারা স্বেচ্ছায় এই অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সরকার কীভাবে আরও সহযোগিতা করতে পারে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”










