লালন সাইঁজির তিরোধান দিবসটি, জাতীয় দিবস ঘোষনায় কালিহাতীতে কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন
Spread the love

শুভ্র মজুমদার, কালিহাতী(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার পর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া বাজারে অবস্থিত লালনের ভাবধারানুসারী কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ অভিনন্দন জানিয়েছেন। ঘোষণার খবর পাওয়ার পরপরই সংগঠনে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশে গত ৩০ আগষ্ট বিকালে নিজস্ব কার্যালয়ে এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ্ আলম, নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার, সহ সভাপতি ইদ্রিস বিডিআর, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী খোকন, পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, সাধু-সজ্জন ও লালনপ্রেমীরা।

সভায় প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ্ আলম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আজ আমাদের জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। লালনের দর্শন মানবতাকে পথ দেখায়, সেই দর্শন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলো। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

সভাপতি হরি মোহন পাল বলেন, লালন আছেন তার গান ও দর্শনের মধ্যে। জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তার শিক্ষা ধারণে অনুপ্রাণিত করবে।

নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার ও সহ সভাপতি ইদ্রিস বিডিআর মন্তব্য করেন, এটি কেবল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয়, বরং মানবতার জয়গান। আজকের এই স্বীকৃতি লালনপ্রেমীদের আত্মতৃপ্ত করেছে।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন বলেন, “লালনের গান আমাদের সত্য, সরলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিখিয়েছে। জাতীয় দিবসের মর্যাদা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।

পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আমরা লালন সাহিত্য সংরক্ষণে নতুন কর্মসূচি নেবো। শিগগিরই পাঠাগারে বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
সভা শেষে সাধু পরিষদের নেতা, সাধু রবীন্দ্র নাথ কর্মকার ও সাধু বিজন ভট্রাচার্য , সাধু মোকাদ্দেছ আলী মোকা, চানঁ মহন মন্ডল, সাধু দুলাল সূত্রধর, সাধু তানজিদ হাসান তোষার সহ স্থানীয় মতিয়ার পীর, আব্দুল লতিফ, সাঈদ ফকির, সূরুজ পীর, ওমর ফারুক , আব্দুর রহিম, দেওয়ান আজাহার আলী খান চিশতিয়া,আব্দুল কাদের,শুকুর মাহমুদ, হাবেল মিয়া , লেবু পাগল, নায়েব আলী ভান্ডারী, লালনের গান পরিবেশন করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তারা বলেন, “আমরা লালনের গান গেয়ে বড় হয়েছি। আজকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমাদের জন্য গৌরবের এবং প্রেরণার দিন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। পাশাপাশি গত এক দশক ধরে তিনদিনব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজন করে আসছে।

ঘোষণার খবরে শুধু কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ নয়, বরং সারাদেশে লালনভক্ত, বাউল, ফকির, সাধু, গোসাই, পীর-মাশায়েখসহ অসাম্প্রদায়িক সাধারণ মানুষদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার একটাই দাবি আগামী ১৭ অক্টোবর লালনের তিরোধান দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সারাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হোক।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31