চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৩৪ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ বশিরুল আলম। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় খন্দকার হাবিবুর রহমান রুনু ও মোঃ জামিরুল ইসলামের মধ্যে। তবে ভোটের মাঠে নানা কৌশল ও চাপের কারণে জামিরুল ইসলাম প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালে কার্যত একক প্রার্থী হয়ে যান রুনু খন্দকার। নির্বাচনে তিনি মোট ৩৪ ভোটের মধ্যে ১১ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপরদিকে ২৩ জন সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকেন। অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা,সহ-সভাপতি: সৈয়দ সাজেদুল হক মনি, রিফাজ্জেল হোসেন ও কে এ মান্নান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোঃ কাইরুল ইসলাম মামুন, মীর ফাহিম ফয়সাল ও সাহাবুল হক,কোষাধ্যক্ষ: হাসিবুল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক: জাফর জুয়েল,দপ্তর সম্পাদক: এস এম বিপ্লব হোসেন,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: মোঃ রুহুল আমিন,তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: লাল্টু রহমান,ক্রীড়া সম্পাদক: মোঃ মহসীনুজ্জামান চাঁদ,সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মোঃ সাকিব হাসান,শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক: গোলাম রহমান,প্রচার সম্পাদক: আব্দুর রাজ্জাক ফারাজি ,কার্যনির্বাহী সদস্য: সাইফুল ইসলাম, রাশেদ ও মাহফুজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক এজিএম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম এবং প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন হারদী এম এস যোহা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক একে এম ফারুক। নির্ধারিত সময় শেষে বেলা ২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান (পিপিএম), ওসি তদন্ত আজগর আলী, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক শাওন, সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল মামুন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, জেলা জামায়াতের যুব বিষয়ক সভাপতি নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম প্রমুখ। যদিও ২০টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এর মধ্যে ১৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। কার্যত ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে কেবল সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেসক্লাবটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এবারই প্রথম ভোটের মাঠে ব্যালট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভোটের মাঠে চাপ, কৌশল ও অসন্তোষের কারণে অনেক ভোটার ভোট বর্জনের চেষ্টা করেছেন। মোট ৩৪টি ভোটের মাধ্যমে ২০টি পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এবার নির্বাচনে আগের নেতৃত্ব পরাজিত হয়ে নতুন মুখরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে ভোট নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বর্জনের প্রচেষ্টা নির্বাচনী উৎসবকে ম্লান করেছে বলে স্থানীয়দের মন্তব্য।