মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ:
ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাই উপজেলায় দুইটি পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় মা শাহানাজ বেগম (৩৫) নিজ হাতে কিশোরী কন্যা সামিয়া আক্তারকে (১৫) হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঘাতক মা শাবল দিয়ে আঘাত করে মেয়েকে হত্যা করেন।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই ঘাতক মা শাহানাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারে নানাবিধ অশান্তি ছিল। তবে হঠাৎ করে মা কেন এভাবে মেয়েকে হত্যা করলেন তা কেউ বুঝতে পারছেন না। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অপরদিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর খাঁপাড়া গ্রামে ভয়াবহ এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাবেক স্ত্রী সেলিনা আক্তার পিংকি (৩০) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তার প্রাক্তন স্বামী বদির শেখ। এরপর স্ত্রীকে হত্যার পর তিনিও বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এরই জেরে চার মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়। তবে বুধবার দুপুরে বদির শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিনার ভাড়া বাসায় গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও বিষপান করেন।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় বদির শেখকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত স্ত্রী সেলিনার লাশও উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সাভার পৌরসভা কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে সহকারী কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম ও অ্যাসেসর অফিসার নাজমুল হোসেনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে পৌরসভার কর্মকর্তারা তাদেরকে আলাদা করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তবে কি কারণে এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে, তা কেউ স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি।
সাভার ও ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পৌরসভায় মারামারির ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে