চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৬ প্রার্থী দৌঁড়ে, মাঠে এগিয়ে বিএনপি ও জামায়াত
Spread the love

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলাকে নিয়ে গঠিত এ আসনে এখন পর্যন্ত ৬ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকলেও সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার এবং নারী প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার। নারী ভোটারের সংখ্যাগত অগ্রাধিকার প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিএনপির তিন শীর্ষ প্রার্থী মাঠে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে বিএনপির তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শরিফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ বলেন,

“রাজনীতির মূল শক্তি সাংগঠনিক ভিত্তি। আমি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে দলের সব স্তরকে একত্রিত করেছি। নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং জনগণের পাশে থাকা—এই কাজ আমি সবসময় করেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নিশ্চিতভাবে জনগণের ভোটে বিজয়ী হবো। বিএনপির বিজয় শুধু একটি আসনের নয়, এটা হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা।” মানুষের আস্থা ভোটে প্রতিফলিত হবে বলে বিশ্বাস করি।”

শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও দুইবারের সাবেক এমপি, বর্তমানে সরব গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। আমার অভিজ্ঞতা ও জনগণের ভালোবাসা আমাকে জয়ী করবে।”

নীলিমা ইসলাম বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য এবং জেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা শহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের কন্যা। তিনি নারী ভোটারদের নিয়ে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছেন। নীলিমা বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ও কৃষক পরিবারের উন্নয়ন হবে আমার অঙ্গীকার। তরুণ ও নারীরা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।”

“জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণা ”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে—অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির নেতা। রাসেল বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন আমার লক্ষ্য। জনগণ পরিবর্তন চায়, আর আমি সে পরিবর্তনের অংশ হতে চাই।” নতুন মুখ ও ভিন্ন ধারার প্রার্থী  এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন রানা বলেন, “তরুণ প্রজন্ম নতুন নেতৃত্ব চায়, আমি সেই নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা দীর্ঘদিন অবহেলিত জনপদ হিসেবে থেকে গেছে। আমি যদি ভোটে বিজয়ী হই, সর্বোচ্চ উন্নয়নের কাজ করব। আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথমেই থাকবে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কৃষির আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খাতে খাতে টেকসই অগ্রগতির উদ্যোগ। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গাকে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক অঞ্চলে পরিণত করতে পারব।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান সামাজিক সংগঠন ও আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি বলেন, “মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার রাজনীতি। উন্নয়ন ও মানবিক সেবা হবে আমার মূল লক্ষ্য। স্থানীয় বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদী সাংগঠনিক ভিত্তি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে শামসুজ্জামান দুদুর অভিজ্ঞতা এবং জামায়াত প্রার্থী রাসেলের তরুণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31