
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিনদিন বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য ও ঘোষিত প্রার্থীরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর-আলমডাঙ্গা) ও চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা-জীবননগর) আসনে বর্তমানে চারজন শীর্ষ প্রার্থীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ভোটার ৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭২ জন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ জন এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৭ জন। দুই আসনেই নারী ভোটার পুরুষের চেয়ে সামান্য বেশি, যা প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসন: বিএনপির শরীফুজ্জামান শরীফ বনাম জামায়াতের মাসুদ পারভেজ রাসেল
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। রাজপথের দীর্ঘ লড়াই, দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এবং তৃণমূলের আস্থা অর্জনের কারণে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিগত সরকারে বারবার গ্রেফতার, হামলা ও মামলার শিকার হয়েও তিনি সক্রিয় থেকে নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে—দলটির জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির নেতা অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী মূল্যবোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি ব্যাপক গণসংযোগে ব্যস্ত। তার সামাজিক কাজ ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তবে এ আসনে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে ঘিরে। তিনি কয়েকটি গণসংযোগ ও পথসভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আলমডাঙ্গা ও সদর উপজেলায় তার বিপুল সংখ্যক সমর্থক থাকায় সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসন: বিএনপির মাহমুদ হাসান খান বাবু বনাম জামায়াতের রুহুল আমিন
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মধ্যে মনোনয়নের শীর্ষে আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান খান বাবু। ঢাকায় বসবাস ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে অতীতে এলাকায় উপস্থিতি কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং গণসংযোগে নেমেছেন।
অন্যদিকে, জামায়াত এখানে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জেলা আমির ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে। সংগঠন ধরে রাখা, মাদকবিরোধী অবস্থান এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি তাকে স্থানীয় ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় তিনি বর্তমানে খানিকটা এগিয়ে আছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সমীকরণ ও বিশ্লেষণ
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের রুহুল আমিন প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বিএনপির মাহমুদ হাসান খান বাবুর সক্রিয় হওয়ায় সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
তৃণমূল ভোটাররা এবার প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সততা ও কাজের সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা এমন কাউকে ভোট দেবো, যিনি শুধু দলের জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করবেন।










