‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে’ পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,পদক্ষেপের নামে শুধু ফাইলের ‘পিলো-পাস’
Spread the love

সাকিব আহসান : পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট যেন ‘ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরী বিভাগে সহকারি সার্জনের পরিবর্তে বেশিরভাগ সময় রোগীদের সেবা! দেন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার(SACMO) এবং অধস্তন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের ‘সেবা প্রদানের চাপ’ নেওয়ার ক্ষমতা পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। তাছাড়া রোগীকে ‘রেফার্ড’ করার সস্তা কৌশল তো রয়েছেই। নিযুক্ত সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারেরা ব্যক্তিগত চেম্বার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের শেয়ার এবং উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করে তা মাইকে এলাকাজুড়ে ঘোষণা করে ‘সুপ্ত আনন্দের সুড়সুড়ি উপভোগ’ নিয়েই ব্যস্ত। তদবির করে চিকিৎসকেরা নিজেদের কর্মস্থল পরিবর্তন করান ধনীদের নগরে।
বাসনা একটাই, বহুতল ভবনে তাপানুকূল চেম্বারে বসে মোটা অংকের ভিজিট নিয়ে অসহায় রোগীদের হাতে ওষুধ কোম্পানির ফরমায়েশী প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ চিকিৎসক পদসংখ্যা ৩০ হলেও নিয়োগ পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা উড়াল দেন স্বীয় স্বার্থের দূর দ্বীপে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুল জব্বার জানান, “হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার রোগীদেরও সেবা দিতে হচ্ছে। এতে রোগীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে। সংকট নিরসনে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক পদায়ন হয়নি।” সিভিল সার্জন ডা: আবুল বাসার মো: সায়েদুজ্জামান সিভিল সার্জন ( ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট নিরসনে আমরা প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়া এবং তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সে যোগদানের কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে।’

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31