উজ্জ্বল কুমার : বাংলা সংগীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলমের আজ জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার হারুন্জা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা এ. এফ. তসলিম উদ্দীন আহমেদ ও মা মোসা. মেহেরুন নেছা। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক – মেহেরিন আলম ও মেহনাজ আলম।
খুরশিদ আলমের শৈশব কেটেছে পুরান ঢাকায়। মাত্র তিন বছর বয়সে ঢাকায় এসে সংগীতের হাতেখড়ি হয় তার চাচা, বিখ্যাত গীতিকার ডা. আবু হায়দার মো. সাজেদুর রহমানের কাছে। সংগীত জীবনের সূচনা হয় ১৯৬২ সালে রেডিও পাকিস্তানের আধুনিক সংগীত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। তিনি ১৯৬৩ সালে বেতারের রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। তবে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে তিনি আধুনিক গানে মনোনিবেশ করেন। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সমর দাস ও আজাদ রহমানের সঙ্গে তার কাজ শুরু হয়, যার ফলশ্রুতিতে জনপ্রিয়তা পায়— "তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম" এবং "চঞ্চলা দুই নয়নে বলো না কী খুঁজছো" গান দুটি। ১৯৬২ সালে ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রে “বন্দী পাখির মত মনটা কেঁদে মরে” গানটির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র সংগীতে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ চলচ্চিত্রে গান করেন। ২০১৮ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
তার গাওয়া বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🔹 তোমরা যারা আজ আমাকে ভাবছো মা
🔹 মাগো মা ওগো মা আমারে বানাইলে তুমি
🔹 চুমকি চলেছে একা পথে সঙ্গী হলে
🔹 তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম
🔹 একটি রাতের গল্প তুমি হাজার রাতের মর্জিনা
🔹 প্রেম করেছো তুমি আর মন দিয়েছি আমি
🔹 চুপি চুপি বল কেউ জেনে যাবে জেনে যা
🔹 মুন্না আমার লক্ষী সোনা আমার নয়ন মনি
বাংলা গানের জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র বর্তমানে অবসরে থাকলেও, তার গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে চিরভাস্বর হয়ে। আজ এই মহান শিল্পীর জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।