
ঢাকার মিরপুরে ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির (২২) নিথর দেহ অবশেষে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বহুক্ষণ তল্লাশির পর, আজ সকালে ম্যানহল এর তিন কিলোমিটার দূর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাগান পাড়া গ্রামে। বাবা না থাকায় সে ঢাকায় থেকে জীবনের সংগ্রামে লড়ছিল। কর্মরত ছিলেন নিকুঞ্জ এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে। একটুকরো স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি দেওয়া মেয়েটির জীবন এভাবে নিভে যাবে কে ভাবতে পেরেছিল!
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাস্তার পাশের খোলা ম্যানহোলগুলো দীর্ঘদিন ধরে কারো নজরে নেই। উন্নয়নের ঢোল পেটানো হলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজও অন্ধকারে।
তাসনিমের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয় এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার ফল। সময়মতো যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিত, এই প্রাণটা হয়তো আজও বেঁচে থাকতো।
এই মৃত্যু কি শুধু দুর্ঘটনা? না! এটা রাষ্ট্রের অবহেলার ফল, সরকারের গাফিলতির ভয়াবহ মূল্য। যে শহরে কোটি কোটি টাকা খরচ হয় উন্নয়নের নামে, সেই শহরে একটি ঢাকনার অভাবে একজন মেয়ে হারিয়ে যায় চিরতরে? এ দায় কি শুধু ভাগ্যের? না, এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ। সেই ম্যানহোলটি যদি বন্ধ থাকত, পথচারীদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত থাকত, তবে আজ জ্যোতি আমাদের মাঝে থাকত।
ফারিয়ার মা আজ বলছেন, আমার মেয়ের লাশটা যদি পাই, ওর কপালে একটু চুমু দিতে চাই। আমার মেয়ে আজ শহরের নোংরা ড্রেনের পানিতে তলিয়ে আছে। আর রাষ্ট্র চুপ। নগর কর্তৃপক্ষ চুপ। দায়িত্বশীল কেউ জবাব দেয় না। ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি এখন শুধুই একটি নাম নয় সে একটি প্রশ্ন, একটি প্রতিবাদ, একটি প্রতীক।এই মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতেই হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিচারের আওতায় আনা হোক। দেশের প্রতিটি খোলা ম্যানহোল বন্ধ করা হোক। ভবিষ্যতে আর যেন কেউ রাষ্ট্রীয় অবহেলার বলি না হয়।










