মোহাম্মদ আব্দুর রহমান হেলাল, ভোলা: রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী আয়া মাসুমা বেগমের (৩৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার নিজ গ্রাম ভোলার বোরহানউদ্দিনে। শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরদিন রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে তাকে তার স্বামীর পিত্রালয় ভোলা সদর উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের রুন্দি গ্রামে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার গভীর রাতে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া। লাশবাহী গাড়ি ঘিরে শত শত মানুষ ভিড় করে, অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
নিহতার স্বামী মো. সেলিম জানান, “আমরা ঢাকার তুরাগ থানার নয়ানগরের শুকরা ভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতাম। আমি একটি বায়িং হাউজে কাজ করি আর মাসুমা গত চার-পাঁচ বছর ধরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়া হিসেবে চাকরি করছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার দিন তিনি স্কুলে দায়িত্বে ছিলেন। আগুন লাগার পর মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”
চোখে জল নিয়ে সেলিম বলেন, “আমার স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত মমতাময়ী। স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের খুব যত্ন নিতেন। আমাদের একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে, ছেলে উত্তরার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মায়ের মৃত্যুতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে। আমি নিজেই পাথরের মতো হয়ে গেছি। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমার স্ত্রীর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাত নসীব করেন।”