আলোচিত কালামের দাফনে বাধা, শেষ ঠিকানা হলো নিজ বাড়ির উঠানেই
Spread the love

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী বাগানপাড়ার আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি কালাম (ছদ্মনাম ‘বোমা কালাম’) (35) আর নেই। শনিবার (২৬ জুলাই) রাতের দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিলেন।

তবে মৃত্যুর পরও থামেনি তাকে ঘিরে বিতর্ক ও জনরোষ। এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তির কারণে তাকে গ্রামের গোরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। শেষমেশ সামাজিক চাপের মুখে পরিবার বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ির উঠানেই তার দাফনের ব্যবস্থা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় কালাম নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ তার বিরুদ্ধে থানায় ১৭টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এমনকি নিজের মাকেও বোমা মেরে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি অসামাজিক ও ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ—কালাম ধর্মীয় মূল্যবোধকে তাচ্ছিল্য করতেন, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন, গরিব-দুঃখীদের কষ্ট নিয়ে উপহাস করতেন এবং দান-খয়রাতে বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। এক প্রতিবেশী জানান, “মানুষ না খেয়ে মরত, আর সে কুকুরকে খাওয়াত হাঁস-মুরগির রান। মানুষ মরলে ক্লাবে গান বাজাত। এমনকি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিকেও মাটি দিতে দিত না। আজ সে নিজেই সেই বাস্তবতার শিকার হল।”

কালামের মৃত্যুর পর তার পরিবার যখন মরদেহ গ্রামের গোরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেয়, তখন স্থানীয়রা একজোট হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি—যিনি জীবদ্দশায় মানবতা ও ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাকে গ্রামের পবিত্র গোরস্থানে দাফন করা চলবে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও ব্যর্থ হয় পরিবার। অবশেষে সামাজিক চাপে বাড়ির উঠানেই দাফনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় তারা।

এক প্রবীণ মসজিদ কমিটির সদস্য বলেন, “পাপ করলে তার শাস্তি এ দুনিয়াতেই শুরু হয়। জীবদ্দশায় যেসব কাজ সে করেছে, তার ফল সে মৃত্যুর পরও ভোগ করছে। গোরস্থানের মাটিও আজ তাকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।”

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন—মৃত্যুর পর শত্রুতা নয়, বরং দোয়া ও ক্ষমার মাধ্যমে বিদায় জানানো উচিত। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও, এ ঘটনা একটি বড় সামাজিক বার্তা দিয়ে গেল—জীবনের প্রতিটি কাজেরই জবাবদিহি আছে। সময় থাকতে অনুশোচনা না করলে মৃত্যুর পরের সম্মানটুকুও হারিয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31