
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (F-7 BGI) বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ১৯ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৪ জন। দুর্ঘটনার শিকারদের মধ্যে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন রয়েছেন। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। আকাশে উঠেই কিছুক্ষণের মধ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তারপর সেটি মাইলস্টোন কলেজের মূল ভবনের পাশে খেলার মাঠে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট, পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মধ্যে বিমানচালক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর এবং কলেজের ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। আহতদের স্থান অনুযায়ী চিকিৎসা:,হাসপাতালের নাম আহত নিহত,জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউট ৭০ জন ২ জন,সিএমএইচ (ঢাকা) – ১২ জন ,লুবনা জেনারেল হাসপাতাল ১১ জন ২ জন উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল ৬০ জন ১ জনকুর্মিটোলা হাসপাতাল ২৩ জন ২ জন,বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মুখপাত্র আইএসপিআর ,এক বিবৃতিতে বলেন, “পাইলট দুর্ঘটনার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটিকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। একটি বড় বিপর্যয় থেকে রাজধানী বেঁচে গেছে।” তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী সাবিহা রহমান জানায়, “হঠাৎ বিকট শব্দে কাঁপতে থাকে পুরো ভবন, এরপর জানলা দিয়ে দেখি আগুনের লেলিহান শিখা। সবাই চিৎকার করে দৌড় দেয়।”
কলেজের একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান,“ধোঁয়ার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আটকা পড়ে যায়। আমরা স্থানীয়রা মিলে জানালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করি।”এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানসংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর একটি। এর ফলে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশবাসী শোকাহত, এবং সবাই আশা করছে নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে সরকার সর্বাত্মকভাবে থাকবে।










