মোঃ আল আমিন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী মাতাইশ মন্জিল মহল্লার চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মরহুম ফজলুল হক চৌধুরী। তিনি জয়পুরহাট সুগার মিলে সিআই (চিফ ইন্সপেক্টর) পদে কর্মরত ছিলেন। এজন্য এলাকায় তিনি “সিআই সাহেব” নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। কঠোর শাসন ও পিতৃস্নেহে বেড়ে ওঠা সন্তানরা আজ সবাই প্রতিষ্ঠিত।
গত বছরের ১ জুলাই ৯০ বছর বয়সে ফজলুল হক চৌধুরী ইন্তেকাল করেন। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারে আয়োজনে শুক্রবার কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল, কবর জিয়ারত ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।
মরহুমের একমাত্র মেয়ে মোছাঃ তানজিলা আক্তার চৌধুরী বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। হাজার মাইল দূরে বসবাস করায় বাবার শেষ যাত্রায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। তবে বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ভাই-বোনেরা মিলে এ আয়োজন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে ফজলুল হক চৌধুরী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার তিন পুত্রও পিতার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বড় ছেলে মোঃ মোফাছের হোসেন চৌধুরী মৃদুল দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে সিএন্ডএফ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বর্তমানে বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাঝ ছেলে মোঃ মুন্জুরুল মোর্শেদ চৌধুরী মঞ্জু ঢাকায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসা সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছোট ছেলে রোটারিয়ান মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী ইমু পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি পল্টন থানা সুজনের সাধারণ সম্পাদক এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম টাটকাবাজার.কম এর প্রতিষ্ঠাতা।
মরহুম ফজলুল হক চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, পাঁচবিবি বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম ডালিম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সভাপতি জহুরুল আলম তরফদার রুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম মাস্টার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আবুল হাসনাত মন্ডল হেলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সেলিম রেজা ডিউক, সদস্য সচিব মনজুরে মাওলা পলাশ, থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জনাবুর রহমান জনি, থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেন আপেল, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাফিউল ইসলাম রকি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ নুরুজ্জামান মন্ডল, থানা কৃষকদলের আহ্বায়ক মোঃ রাহিদ হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুমায়ূন কবীর, সদস্য সচিব হাসানুজ্জামান রাব্বি, জেলা ছাত্রদল নেতা এম এ তাহেরসহ মহিলা দল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি ছিল মরহুমের স্মরণে এক আবেগঘন মিলনমেলা। সবাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের জন্য শুভকামনা জানান।