
বিতর্কিত ও মামলাবাজ পরিচয়ে পরিচিত জোসনা বেগম কর্তৃক একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ সফিকুল ইসলাম।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ঘুইংগারহাট এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, উত্তর জয়নগরের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জোসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মে জড়িয়ে রয়েছেন। তিনি একজন পরিচিত মামলাবাজ ও বিতর্কিত নারী, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানো ও হেনস্তা করা হয়। সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নিরীহ নারী-পুরুষ তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে চরমভাবে ভুক্তভোগী হয়েছেন। সফিকুল আরও জানান, জোসনা বেগম কিছু জমি কিনে ইসমাইল ফরাজী বাড়ির পাশে বসবাস শুরু করার পর থেকেই পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেন। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে, তার পক্ষে কাগজপত্র সঠিক না থাকায় মীমাংসা প্রত্যাখ্যান করে এবং ক্ষোভ থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালান। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে আমার মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি “অনলাইন সকালের সংবাদ” নামক একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জোসনা বেগম কবরস্থানের জমি দখল ও পুকুরের মাছ লুট করার মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেই জমিকে কবরস্থান বলা হয়েছে, তা বাস্তবে কবরস্থান ছিল না এবং নয়। উক্ত পুকুরটির মালিকানা লোকমান গং-এর, যা বর্তমানে একটি মসজিদ কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে—আমার সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও বক্তব্য রাখেন। উত্তর জয়নগরের আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, “জোসনা নিজে গাছ কেটে পরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমাকে হয়রানি করেন। শেষমেশ ২০ হাজার টাকা দিয়ে থানার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য হই।” একই এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, “আমি জমি বিক্রি করতে না চাওয়ায়, জোসনা আমার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং উল্টো আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন।” এছাড়া সামছুদ্দিন, হোসেন ও মোঃ আলমগীরসহ আরও অনেকেই বলেন, “জোসনা ও তার পরিবার এলাকার লোকদের সঙ্গে গায়ে পড়ে বিবাদে জড়ায় এবং সুযোগ নিয়ে টাকা আদায় করে। তার দুই বোনও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত বলে আমরা অবগত।” ভুক্তভোগীরা বলেন, ২০১৩ ও ২০২৫ সালের মে মাসে ঘুইংগারহাটে হাজারো নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে জোসনা বেগমের বিচার দাবি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরও নিরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, বিতর্কিত জোসনা বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের। যাতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ তার মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পায়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।










