
ভোলা প্রতিনিধি: মো. আব্দুর রহমান (হেলাল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ১৫ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৪টায় ভোলা জেলা জামায়াত অফিসে “জুলাই বিপ্লব ২০২৪”-এ শহীদ ও আহতদের স্মরণে এক মতবিনিময় সভা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এই আয়োজনটি একটি মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমীর মাষ্টার মোঃ জাকির হোসাইন।
প্রধান আলোচক ছিলেন ভোলা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, বায়তুল মাল সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, মিডিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আমির হোসেন, ভোলা সদর উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল হোসাইন, পৌর আমীর মাওলানা জামাল উদ্দিন, পৌর নায়েবে আমীর মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গাফফার এবং পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আতাউর রহমান।
সভাটি সভাপতিত্ব করেন ভোলা সদর উপজেলার আমীর মাওলানা মোঃ কামাল হোসাইন।প্রধান বক্তা মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লব ছিল এক নির্ভীক প্রতিবাদের নাম, যা গণতন্ত্র, ইনসাফ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণার উৎস, তাঁদের পরিবারকে সম্মান জানানো আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আজ যখন আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, তখন এক শ্রেণির অপশক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভয় পাই না, বরং ন্যায় ও সত্যের পথে থাকাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন,
“দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার এবং জনসেবার মাধ্যমে আমাদের পথচলা আরও গতিশীল করতে হবে। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদের কোনো জায়গা সংগঠনে নেই।” আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা: অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আহত ১৬ জন সংগ্রামী কর্মীর হাতে নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, ইতিপূর্বে প্রতিটি শহীদ পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একজন শহীদ পরিবার সদস্য অনুষ্ঠানে বলেন,
“এই সহানুভূতি ও মূল্যবোধপূর্ণ আয়োজন আমাদের কাঁধে আশা ও দায়িত্ব দুটোই তুলে দেয়। আমরা চাই, শহীদদের স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপ নেয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়।”এই মতবিনিময় সভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা একটি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক। শহীদদের স্মৃতি ধারণ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করতে চায়—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায় উপস্থিত সকলের মাঝে।










