চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একমাত্র উচ্চশিক্ষার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান “আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ” পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৬০ বছর। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি ২০২২ সালে সরকারি স্বীকৃতি পেলেও এখনও পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কলেজগুলোর আধুনিকায়ন হলেও এ প্রতিষ্ঠানটি রয়ে গেছে অবহেলার ছায়ায়।
কলেজে নেই নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ভবন, নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, বিজ্ঞান বা আইসিটি ল্যাব, অডিটোরিয়াম কিংবা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমনরুম। নেই কোনো ছাত্রাবাসও। ফলে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নানান প্রতিবন্ধকতা। যেখানে দেশের অনেক কম প্রতিষ্ঠিত কলেজও আগেই জাতীয়করণের আওতায় এসেছে, সেখানে দীর্ঘদিন অবমূল্যায়নের শিকার হয় আলমডাঙ্গা কলেজ। দুর্নীতির জালে আটকে থাকায় পিছিয়ে পড়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে ২০২২ সালে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে কলেজটি সরকারি স্বীকৃতি পেলেও, উন্নয়নের আশ্বাস আজও রয়ে গেছে ফাইলবন্দি।
আজ ১৪ই জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ: দুপুর ১২টায় কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সরাসরি এক মতবিনিময়কালে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সংকট আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদের স্বপ্ন পূরণে আমরা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন।”
আলমডাঙ্গার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সচেতন মহলের বক্তব্য—এ দাবিটি কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, বরং গোটা আলমডাঙ্গাবাসীর। তারা মনে করেন, ৬০ বছরের পুরোনো একটি সরকারি কলেজের এমন করুণ অবস্থায় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
স্থানীয়রা বলছেন, “এই অবিচার আর দীর্ঘদিন মেনে নেওয়া যাবে না। এখনই সময় আওয়াজ তোলার, এখনই সময় অধিকার আদায়ের।” শিক্ষার অধিকার ও উন্নয়নের নায্য হিস্যা আদায়ের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক উঠেছে সর্বস্তরে।
আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সার্বিক উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত থামবে না এ দাবির সংগ্রাম। ৬০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আজকের প্রজন্ম অধিকার সচেতন। অচিরেই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে স্থানীয়ভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেই হাঁটবে ছাত্রসমাজ।