মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল ,ভোলা প্রতিনিধ : ভোলার লালমোহন উপজেলার গর্বিত সন্তান, হাফেজ, মাওলানা, মুফতি এবং গবেষক মোঃ সানাউল্লাহ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন্স অ্যান্ড কালচার’ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে তাঁর এ নিয়োগ কার্যকর হয়। এ গৌরবজনক অর্জনে লালমোহনসহ গোটা ভোলা জেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে। মোঃ সানাউল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র। পাশাপাশি তিনি একজন বিশিষ্ট লেখক ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তাঁর লেখা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে — (১) প্রকাশিতব্য তাফসিরুল কোরআন (২) The Problems and Prospects of Interfaith Dialogue — যা জার্মানি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি শুধু একজন মেধাবী শিক্ষক নন, বরং এক বিদ্বৎসমৃদ্ধ পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন পরিশ্রমী গবেষকও বটে। তাঁর পিতা ছিলেন চরফ্যাশনের ঐতিহ্যবাহী কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রধান মুফতি ও ফকিহ আলহাজ্ব মাওলানা আবু তাইয়্যেব (রহ.), যিনি দেশের অসংখ্য আলেমের উস্তাদ হিসেবে পরিচিত। মোঃ সানাউল্লাহর পরিবারে শিক্ষা ও জ্ঞানের ধারাবাহিকতা সুদৃঢ়। বড় ভাই হাফেজ মাও. সাইফুল্লাহ বর্তমানে ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।মেজো ভাই ড. জাফর উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োজিত।অপর এক ভাই চরফ্যাশনের একটি ফাজিল মাদ্রাসায় ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে কাজ করছেন।তাঁর বোন জামাই তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ।চাচা মরহুম মাও. নুরুল হক ছিলেন লালমোহন ডাওরীহাট মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং অন্য চাচা মাও. নুরুজ্জামান ছিলেন ঢাকার একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক।চাচাতো ভাইদের মধ্যে মাও. আতিকুল্লাহ ও শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ ভোলা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে পরিচিত মুখ।উল্লেখ্য, মো. সানাউল্লাহের পিতৃপুরুষরা একসময় তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।তাঁর এ সাফল্যে লালমোহন ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়,“মো. সানাউল্লাহ শুধু লালমোহনের গর্ব নন, তিনি ভোলার সামগ্রিক শিক্ষাপরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ খবরে প্রশংসার ঢল নেমেছে। শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।এই সাফল্য শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এটি একটি পরিবারের ঐতিহ্য, একটি অঞ্চলের গর্ব এবং আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।