মোঃ আবদুর রহমান (হেলাল) (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলায় একের পর এক ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে লালমোহনের ছাত্র-জনতা।
টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সোমবার দুপুরে শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। ‘জুলাই ছাত্রজনতা, লালমোহন-তজুমদ্দিন’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শতাধিক মানুষ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ধর্ষণ এখন দেশে যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। অথচ এসবের পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ছাপ স্পষ্ট।”
প্রতিবাদ মঞ্চে বিভিন্ন সংগঠনের কণ্ঠ
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শামসউদ্দিন,
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর মো. হাসনাইন আল-মুসা,
ছাত্রশিবির লালমোহন উপজেলা উত্তর সভাপতি আ. রহমান,
নাগরিক ঐক্য প্রতিনিধি শামীম আহমেদ,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাফেজ মুফতি শফিক,
এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলা দপ্তর সম্পাদক রাহাদ রুমি।
তাদের অভিযোগ,
“৫ আগস্টের পর থেকে কিছু রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নতুন ব্যানারে সংঘটিত হচ্ছে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। শুধু বহিষ্কার নয়, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
ভুক্তভোগীরা মামলার ভয়েও মুখ বন্ধ
বক্তারা বলেন, লালমোহনেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। একজন মাত্র অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের নীরবতার ছত্রছায়ায়।
মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন,
“ভোলায় মাদক, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”
তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “প্রশাসন যদি এসব অপরাধ রুখে দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণকে রাস্তায় নেমেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
আয়োজক সংগঠন 'জুলাই ছাত্রজনতা' জানিয়েছে, ধর্ষণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জেলার প্রতিটি এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।