
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের গোপিবল্লভপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে মাদকের দৌরাত্ম্য এবং নারী-শিশুদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শতাধিক মানুষ মাদকবিরোধী প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌর শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম গোপিবল্লভপুরে সম্প্রতি গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবার অবাধ বিক্রি ও সেবন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আতিয়ার রহমানের জামাতা ফরজ আলী, যিনি স্ত্রী কবিতা খাতুন ও শাশুড়ি জাহানারা খাতুনকে নিয়ে ঘরের ভেতরেই মাদক বিক্রি করেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাইকযোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদকসেবীরা এসে ভিড় করে গ্রামে। এর ফলে নারীদের চলাফেরায় চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। ছাত্রীদেরকে প্রায়ই হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ উঠে।
এই পরিস্থিতিতে গোপিবল্লভপুর গ্রামে মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন এলাকার বিশিষ্ট মন্ডল ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল মালেক মন্ডল, মনিরুল ইসলাম মন্ডল, আবু তাহের মন্ডল, আব্দুল জলিল মন্ডল, ১ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জামসিদুল হক, মাদ্রাসা শিক্ষক হাসিবুল ইসলাম, সমাজকর্মী আসাদুজ্জামান টুটুল, জিনারুল ইসলামসহ দেড় শতাধিক গ্রামবাসী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমরা গোপিবল্লভপুরকে মাদকমুক্ত দেখতে চাই। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”
আরেকজন বলেন, “গোপিবল্লভপুরসহ আশপাশের অন্তত ১২-১৫টি গ্রামে ফরজ আলীর মাদকের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আজ আমরা প্রতিবাদ করেছি, কাল যেন প্রশাসনও দায়িত্ব নেয়।”
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে তাদের একটাই দাবি— “গোপিবল্লভপুরকে বাঁচান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করুন।” তারা ফরজ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, মাদকের রুট চিহ্নিত করে অভিযান, এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর এই প্রতিবাদে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।










