মোঃ ইলিয়াছ খান, ফরিদপুর প্রতিনিধি :
পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে এসেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিমন পেঁয়াজে ২০০/৩০০ টাকা কমেছে। উৎপাদন ও সংরক্ষণের খরচের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কম হাওয়ায় লোশন বলতে হচ্ছে চাষীদের।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকলহাটি ও গট্টি ইউনিয়নের ঠেনঠনিয়া হাটে প্রতিমন পেঁয়াজ বিক্রি হয়,১হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দামে। সপ্তাহে শনি ও বুধবার বসে নকুলহাটি পেঁয়াজের হাট। আর রোববার ও বুধবার বসে ঠেনঠেনিয়া পেঁয়াজের হাট। এদিকে রোববার ও বৃহস্পতিবার বসে সালথা সদরে বৃহত্তম পেঁয়াজের হাট। শুক্রবার ও সোমবার বালিয়া গট্টি বাজার পেঁয়াজের হাট। এ ছাড়াও কাগদি, মুন্তার, জয়কাইল, বাঁশখালী ও যদুনন্দী বসে পেঁয়াজের হাট।
এসব হাটে স্থায়ীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে আসে শত শত ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনতে। প্রতি সপ্তাহে শত শত গাড়ি পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন শহর নিয়ে যান তারা।
চাষিরা জানান, এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় দাম বাড়েনি। নকুলহাটি বাজারে পেঁয়াজে বিক্রি করতে এসে চাষিরা জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনের উৎপাদন খরচ এবং সংরক্ষণের খরচের ঘাটতি মিলিয়ে প্রতিমন পেঁয়াজে যে খরচ চাষীদের হয়। সেই তুলনায় বর্তমান বাজারের দাম অনেক কম। আজ বৃহস্পতিবার বৃহত্তম সদর বাজার সালথায়, প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪৫০টাকা দরে। এতে প্রতিটি চাষীর লোকসান গুনতে হচ্ছে। পেঁয়াজে যদি ২০০০ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাম হয় তাহলে চাষিরা স্বাভাবিকভাবে কিছুটা লাভবান হতো। ঠেনঠেনিয়া বাজারে পেঁয়াজে বিক্রি করতে আসা চাষি সোহাগ হোসেন বলেন, পেঁয়াজের মৌসুমে বাজারের দাম মন প্রতি ছিলো ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা । ভালো দামের আশায় পেঁয়াজ ঘরে রেখে ৩০ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আবার কিছু পচে ও গিয়েছে। কিন্তু এখন হাটে পেঁয়াজের যে দাম, তাতে চালান থেকে ঘাটতি অনেক বেশি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান হাটে যদি পেঁয়াজের দাম ২০০০ হাজার টাকা থেকে ৩০০০ হাজার টাকা দাম থাকত, তাহলে লোকসান গুনতে হতো না। বরং কিছু লাভ হতো।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর হঠাৎ করে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমে গেছে। তবে দাম বাড়বে কিনা, এটা দ্বারা করতে পারছেন না তারা।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সদীপ বিশ্বাস বলেন, পেঁয়াজের মৌসুমে সালথা উপজেলায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়। ফলন ভালো হওয়ায় এ উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন সিকদার বলেন, কৃষি পণ্যের দাম অস্থিতিশীল। কয়েকদিন বৃষ্টি ছিল, তারপর আবার বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়ার কারণে দাম কিছুটা কমে গিয়েছে।
আশা করি আবার দাম বাড়বে।