কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর তীরে বহুদিন ধরে পড়ে থাকা এক পরিত্যক্ত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আবারও সরব হয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের নাম ব্যবহার করে ‘শেখ রাসেল শিশু পার্ক’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পার্ক আজও দৃশ্যমান নয়। এলাকাবাসীর দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র নামকরণের রাজনীতি, যার সঙ্গে জনগণের কল্যাণের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পার্কটির কাজ এক ধাপও এগোয়নি, বরং নানা কারণে এটি পরিণত হয়েছে প্রহসনে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগপন্থী কিছু পা চাটা সাংবাদিক কখনোই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি; বরং তারা চাটুকারিতার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য আড়াল করেছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন।
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার পলায়নের পর কুড়িগ্রামে নতুন আশার সঞ্চার হয়। বর্তমান জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা, জনগণের বিনোদনের অভাব দূর করতে, ধরলা নদীর তীরে নতুন ‘ডিসি পার্ক’ নির্মাণের ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় জেলার সব রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।
তবে বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এই উদ্যোগ ব্যাহত করতে মাঠে নেমেছে অতীতের ফ্যাসিস্ট ঘরানার পা চাটা সাংবাদিকেরা। শেখ রাসেলের নাম পরিবর্তন হওয়ায় তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করতে নেমে পড়েছেন নানা ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে। কুড়িগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি তারা আবারও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছেন।
অবস্থার বিপরীতে, যারা সত্য তুলে ধরতে চেয়েছেন, যারা এই ফ্যাসিবাদী চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, তাদেরও টার্গেট করা হচ্ছে মিথ্যা অপবাদ ও বানোয়াট সংবাদ দিয়ে।
কুড়িগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজের দাবী—যেসব সাংবাদিক দলীয় স্বার্থে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন ও ফ্যাসিস্ট শক্তির হয়ে কাজ করছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। কারণ, এই অপসাংবাদিকতা কুড়িগ্রামের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে এক বড় ষড়যন্ত্র।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত চাহিদায় ‘ডিসি পার্ক’ আজ এক নতুন আশার নাম। এটি যেন কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বলি না হয়, সেই প্রত্যাশা সর্বসাধারণের।