ছাত্রদল নেত্রী ইপ্সিতার রহস্যময় মৃত্যু: সত্য উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ভোলায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার অপমৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে ভোলা পৌর ছাত্রদল এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় পৌর ছাত্রদল সদস্য সচিব জাকারিয়া বেলালের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি ভোলা হোমিও কলেজ রোড থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর ছাত্রদল সদস্য সচিব জাকারিয়া বেলাল। তিনি বলেন,
“ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ও ছাত্রদলের সাহসী নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠস্বর। তার হঠাৎ মৃত্যু আমাদের শোকাহত করেছে এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা শুধু আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। কে বা কারা তাকে এই পথে ঠেলে দিলো—তা তদন্তের মাধ্যমে জানতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন,
“ইপ্সিতার মৃত্যু নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা চাই সত্য প্রকাশিত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

ঘটনার পটভূমি:
গত ১৭ জুন ভোলা থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা। এরপর চার দিন নিখোঁজ থাকার পর ২১ জুন লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ভেসে ওঠে তার মরদেহ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে দেখা দিয়েছে বিভাজন ও প্রশ্ন। কেউ বলছেন এটি আত্মহত্যা, কেউ আবার দাবি করছেন—ধর্ষণের শিকার হয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে। আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘পরকীয়াজনিত আত্মহত্যা’ হিসেবেও উপস্থাপন করছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইপ্সিতার মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদলের দাবি:
পৌর ছাত্রদল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,
১. ইপ্সিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্ত করে জাতিকে জানাতে হবে।
২. আত্মহত্যা নাকি হত্যা — এই প্রশ্নের সঠিক ও নিরপেক্ষ উত্তর চাই।
৩. দোষী যেই হোক, দলের ভেতরে বা বাইরে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. রাজনৈতিকভাবে কাউকে কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র রুখতে প্রশাসন ও দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার মৃত্যু শুধু একটি মর্মান্তিক ঘটনা নয়, এটি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যু যেন ন্যায়বিচারহীনতার নতুন উদাহরণ না হয়—সে প্রত্যাশায় রয়েছে তার পরিবার, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সচেতন জনতা।

তদন্ত, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের স্বার্থে এখন প্রয়োজন অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031