বিএনপির সঙ্গে সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব দলই কিছুটা বিব্রত: জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (এনসিসি) সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যৌথ সংবাদ সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নজিরবিহীন ও বিব্রতকর একটি ঘটনা। এতে সব রাজনৈতিক দল কিছুটা বিব্রত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
আজ বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ইতিহাসের বিরল ঘটনা। এ ঘটনাই আমাদের আপত্তির জায়গা। এতে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলও বিব্রত হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা মনে করি, এ ধরনের যৌথ বিবৃতি প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছে। বিএনপির প্রতি এক ধরনের অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে এতে। ফলে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয়নি।”
তবে তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৭ জুন) প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর দলটি বুধবারের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জামায়াত নেতার ভাষায়, “আমরা সরকারকে ব্যর্থ করতে চাই না, বরং সহযোগিতা করতে চাই। আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তাহের বলেন, “আমরা এনসিসি গঠনের পক্ষে। এটি হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য থাকবে। তবে এনসিসির কাঠামো ও পরিধি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে আমাদের।”
তিনি জানান, এনসিসিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছে জামায়াত। একইসঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগও এই কমিটির আওতায় না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
জামায়াত নেতার মতে, এসব বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লন্ডন বৈঠকের পর বিএনপি ও সরকারের অবস্থান ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জামায়াত নিজেকে প্রান্তিক মনে করছে। সেই প্রতিক্রিয়াতেই প্রথমে বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে আলোচনার মাধ্যমে ফের তারা আলোচনায় ফিরেছে।
শেষাংশে
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারা বলছে, একটি গ্রহণযোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল পক্ষের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।