সাকিব আহসান, প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ ঝাড় - ফুঁক এবং মাহাতে সয়লাব ঠাকুরগাঁও জেলার প্রগতিশীল উপজেলা পীরগঞ্জ। মানুষের জীবনের সমস্যা,অসুস্থতা,জটিলতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক পদার্থ 'পবিত্র মহৌষধ' হিসেবে বিক্রি করে সম্বহিত করা গ্রাহকদের শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করছে একদল ঠগ। এই ঠগেরা সাধারণত মাহাত নামে পরিচিত এবং তাদের অন্যতম ব্রহ্মাস্ত্র হল ধর্মকে ব্যবহার করা ৷ এরাই হল আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'হুজুর কেবলা'।
এই মাহাতেরা
সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের আস্তিনের নিচে ঘাপটি মেরে থাকা সাপ যাদের অপরাধ হচ্ছে ঝাড়- ফুঁকের নামে বাড়ি -বাড়ি সন্দেহ, পরিবারে - পরিবারে সন্দেহ সৃষ্টি, বাড়ি- বাড়ি ঝগড়া লাগিয়ে দিয়ে অবৈধ ভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা। ফলশ্রুতিতে আজ অনেক পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে এবং অনেক পরিবার মাহাত- ফকিরকে টাকা দিয়ে দিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার মালগাঁও,ভেবরা বাসন্ডি, বেগুনগাঁও,দানাজপুর,নোহালী
কালোপীর, করনা, খটসিংগা, বর্ডেরহাট,ভাকুড়া,ফুটানিটাউন,সিন্দগড়,বেলদহী,সাটিয়া,নানুহর,সিদুল্যা,কোণপাড়া, কেউটগাঁও এবং পৌরশহরের নেতারমোড় সহ আরও বেশকিছু এলাকায় সমাজের মাঝে বসবাস করা রক্তচোষা মাহাতদের কার্যকলাপ চলছে যা বিভিন্ন তথ্যসূত্র, ভুক্তভোগী এবং ছদ্মবেশে সরেজমিনে গিয়ে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
পীরগঞ্জ প্রশাসন,বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, সচেতন নাগরিকদের হস্তক্ষেপ ব্যতীত ছাড়া 'জাদু-টোনা-ঝাড়-ফুঁক' নামক ব্যাধি হতে সমাজকে রক্ষা করা অসম্ভব।