সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও :: ঈদুল আযহা'র ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে গ্রাম-গঞ্জ-নগর-শহর হতে পেশাজীবী জনমানুষ ছুটছে বাংলাদেশের নিউক্লিয়াস তথা রাজধানী ঢাকা'র দিকে। ঈদের পরে প্রত্যাবর্তনের যাত্রা হওয়া উচিত ছিল নিরাপদ ও আরামদায়ক। কিন্তু যাত্রীদের দুর্ভোগ, গরমে অসুস্থতা, ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ—সব মিলিয়ে সরকারের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এই যাত্রা তথবৈচ স্বাভাবিক দৃশ্যমান হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতি দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী তাপপ্রবাহ /দাবদাহ পরিবেশ, প্রতিবেশকে ঝাঁঝিয়ে তুলেছে। এ ফল ভোগ করছি আমরা। পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে যা দেখা গেল ; তা দেখে হৃদয়ে আচমকা রক্তক্ষরণ ঘটে গেল। ট্রেনের বগিতে 'ঠাই নেই ঠাই নেই' অবস্থা। পরোটা ভাজা তাওয়ার মত গরম হওয়া ট্রেনের ছাদে যখন মানুষ উঠতে শুরু করল তখন নিজের পায়ের তলা থেকে মাটি খসে গেল। এত ঝুঁকি? কোন জীবনের জন্য? কেন? রাষ্ট্রযন্ত্র কী কোনো বিকল্প রাখেনি? নাকি ইশতেহারেই সমাপ্তি!বহু যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যে ফিরছেন। ছাদে ঠাঁই না পেয়ে অনেকে ট্রেনের সংযোগস্থল বা দরজায় ঝুঁলন্ত অবস্থায় ছিলেন। এই দৃশ্য যেন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যায়নি, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও দেখা যায়নি। রেলকর্তৃপক্ষের সামনেই ওই সংগ্রামী নারী পুরুষ ট্রেনের বগির ছাদে উঠছেন; কিন্তু কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষের লোকবলও কম। সেদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খেয়াল রেখেছে কি না সেটা অজানা। এই গরমে দীর্ঘ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক যাত্রী, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা। পানির সংকট, স্যানিটেশনের অভাব এবং গাদাগাদি ভিড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।