
মোঃ ইলিয়াছ খান ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি। দিনমজুর বাবার ছেলে মোঃ মোশাররফ নিজের নামটাও লিখতে পারে না। বাবার সম্পত্তির ভাব পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ জমি। ৩০ বছর আগে বাবুর হিসাবে কাজ করতেন একটি হোটেলে তিনি, তবে হোটেলের চাকরির মাত্র দুই বছর পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসায় বাবুর্চির চাকরি পান তিনি। এরপর আর কিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মোশারফ এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। গ্রাম থেকে শহরে সব জায়গায় রয়েছে তার বাড়ি গাড়ি শুধু তাই নয় অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজ গ্রামের বাড়ির কৃষকের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ এখন তার নামে। এমনকি নানা ভাবে মানুষকে হয়রানি করেছে তিনি। উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক রহমান শেখের ছেলে তিনি, ২৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর হিসাবে ছিলেন, তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন মোশাররফ। সম্পত্তিতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ চান মিয়া ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ সাগর মিয়া। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে মোশারফ এর নানা অপকর্ম, নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম ও সম্পদের তথ্য। অভিযোগে বলা হয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশাররফ হোসেন কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কৃষক চানমিয়া পীরের বড় কাম দিয়া ৮১ নাম্বার মৌজার ৬১৮ নাম্বার দাগের ৪৩ শতাংশ জমি জল পর্বত দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। বিভিন্ন সময় ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মোশাররফ হুমকি ধামকি ও মারপিট করে কৃষক চানমিয়া ফকির ও তার পরিবারের কে এলাকা ছাড়া করে রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত পহেলা জুন কৃষক চানমিয়ার পরিবারের দখল করা জমি অধ্যাপক করতে গেলে মোশারফ ও তার লোকজন বিভিন্ন হুমকি ধামকে দিচ্ছে। ভুক্তভোগে চান মিয়া ফকিরের ভাতিজা সেন্টু ফকির বলেন, আমার সাথে একজন গরিব অসহায় কৃষক। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ হোসেন তার ৪২ শতাংশ জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে, এবং ওই ঘরের চালের উপর একটি নৌকা তৈরি করে টানিয়ে রাখেন। তখন আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে গেলেও কোন সমাধান পায়নি। বরং জমি দখলে নিয়ে মুখ খুললেই আমাদেরকে মারধর করে ও মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে রাখতেন মোশারফ। শেখ হাসিনার বাবুর সে হয় পুরো বড় কামদিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি করে রেখেছেন। মোশারফ এর প্রতিবেশী মোঃ জামাল সেক বলেন, মোশারফ এর বাবা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন, অভাবের সংসার হওয়ায় মোশার ফ পড়ালেখা ও করতে পারেনি। ছোট সময় থেকে তিনি পাবনা শহরে একটি হোটেলের ঔ বাবুর্চির কাজ করতেন। তখন তিনি বাবার সম্পত্তির ভাগ পান মাত্র পাঁচ শতাংশ জমি। কিন্তু হাজার 996 সালে তিনি শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পাওয়ার পর থেকে যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছেন। বর্তমান কামদিয়া গ্রামে দুই বিঘা জমির উপর রয়েছে বাড়ি মাঠেও বিঘা বিঘা জমি রয়েছে তার। তিনি আরো বলেন ফরিদপুর হাড়োয়াকান্দি ১২ শতাংশ জমির উপর রয়েছে তার একটি বাড়ি এবং রাজবাড়ী রাস্তার মোড় সেখানেও রয়েছে তার বাড়ি। রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় ৮ শতাংশ জমির উপরে রয়েছে তার আরো একটি বাড়ি। এছাড়াও ঢাকা ও ফরিদপুরে রয়েছে তার একাধিক ফ্লাট প্লট ও গাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে মোশাররফ নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকারের, গোয়েন্দা সংস্থা যদি অনুসন্ধান করে তাহলে মোশারফ এর অনেক অজানা তথ্য ও সম্পদের হিসাব বেরিয়ে আসবে, অনুসন্ধানের জানা গিয়েছে শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়া সুবাদে সম্পদ বাড়ার পাশাপাশি মোশারফ তার নিজ গ্রামের ব্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল। সাধারণ মানুষের উপরে হামলা মামলা দখলবাজি চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ না করে বড় রাজত্ব কায়েম করেছিল মোশারফ। যুবলীগ নেতা নুর ইসলামের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দিলে এলাকাছাড়া করে দেন, এরপর তিন নুর ইসলামের সাথে মিলে ফের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেন। বড় কাম দিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ। শুধু গ্রামবাসীর উপর নয় অত্যাচার করেছে হেনস্থা হননি তার হাতে এমন কোন পরিবারই খুঁজে পাওয়া যাবে না তার কাছ থেকে। গত চার বছর আগের দুই মেয়ে এক ছেলেকে আটকে রেখে নিজের স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোশারফ এখনো এখনো তার বাড়িতে তার স্ত্রী আসার সুযোগ পাননি। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায় এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসার একজন বাবুর্চি কত টাকা বেতন পেয়েছে বেতন অনুযায়ী তার তো এত সম্পত্তির মালিক হওয়ার কথা না। নিশ্চয় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। এখন তার সম্পদের বিষয়টি যেহেতু সামনে এসেছে তাই তার সম্পত্তির বিষয়টি অবশ্যই সরকারের কতিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান বলেন, জমির দখলের বিষয় নিয়ে মোশারফ এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









