মালয়েশিয়ায় প্রবাসে মৃত্যু, ৯ দিনের অপেক্ষার পর দেশে ফিরছে হাফিজুলের নিথর দেহ
Spread the love

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী হাফিজুল ইসলাম (৪২) মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর ১৩ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরছে তার নিথর দেহ। আগামী শুক্রবার সকাল ৮টায় তার মরদেহ আলমডাঙ্গায় পৌঁছাবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। গত ৪ জুন ২০২৫, বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মালয়েশিয়ায় তার কর্মস্থলের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন হাফিজুল। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর মালয়েশিয়ায় একটি পাইপলাইন কোম্পানিতে কাজ করে জীবনের সেরা দিনগুলো পরিবারকে সুখ দিতে সংগ্রামে কাটিয়েছেন। হাফিজুল ছিলেন সামসুল হক মণ্ডলের ছেলে। হাফিজুলের সহকর্মী  আনারুল ইসলাম, যিনি আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নের হাউসপুর গ্রামের সাত্তার আলীর ছেলে, জানান—তারা একই রুমে থাকতেন। কিছুদিন আগে ১৫ দিন অবৈধ অবস্থানের পর হাফিজুল নতুনভাবে বৈধ ভিসা পান। তবে তার স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে যায় জীবন। মালয়েশিয়ায় তিনি ‘ফ্রি ভিসা’তে অবস্থান করায় সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। ফলে মরদেহ দেশে আনতে পড়তে হয় আর্থিক সংকটে। স্বজনরা সাহায্যে এগিয়ে না আসায় হাফিজুলের মরদেহ দেশে ফেরাতে ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন আলমডাঙ্গার হাউসপুর গ্রামের মানবিক ব্যক্তি আনারুল ইসলাম। একজন মানুষের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান হচ্ছে এখন কেবল একটি লাশ হয়ে ফেরার মধ্য দিয়ে। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের হৃদয় ভারাক্রান্ত করেছে। প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতা ও একাকীত্ব যেন হাফিজুলের গল্পে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হাফিজুলের মৃত্যু প্রমাণ করে, প্রবাসে জীবন যেমন কঠিন, মৃত্যু যেন তার থেকেও নির্মম। তাঁর প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ ৯ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত তাদের কাছে ছিল দুঃসহ ও হৃদয়বিদারক। শেষকথা: হাফিজুলের নিঃশব্দ প্রস্থান শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি আমাদের সকলকে ভাবায়—প্রবাস জীবনের চাওয়া-পাওয়া, সংকট ও শেষবেলার একাকিত্ব নিয়ে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31