
শুভ্র মজুমদার,: টাঙ্গাইলের আকাশে নেমে এলো এক গভীর অন্ধকার। নিভে গেলো এক নীরব আলোকবর্তিকা। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জীবনসঙ্গিনী, সহযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক সহকর্মী নাসরিন সিদ্দিকী চলে গেলেন না ফেরার দেশে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৭ জুন দিবাগত রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর ফিরতে পারেননি আপন গৃহে, আপনজনের কাছে। হাসপাতালের শীতল বিছানায়ই থেমে যায় তাঁর সাহসী জীবনের শেষ অধ্যায়।
নাসরিন সিদ্দিকী শুধু একজন স্ত্রী নন, ছিলেন একজন আদর্শবান সমাজকর্মী, একজন নিরলস সংগঠক এবং এক অন্তর্নিহিত নেতৃত্বের প্রতীক।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে এই মহিয়সী নারী ছিলেন এলাকার গর্ব, যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থেকে তিনি ছিলেন, শ্রদ্ধা, আস্থা ও ভালোবাসার আশ্রয়।
তার জানাজা ৮ জুন (রবিবার) বাদ আসর ছাতিহাটি গ্রামের পারিবারিক বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সেখানে সৃষ্টি হবে ভালোবাসা আর চোখের জলের মেলা। এক হৃদয়ভাঙা বিদায়ে তাঁকে বিদায় জানাবে এলাকাবাসী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা ও হাজারো শুভাকাঙ্ক্ষী।
নাসরিন সিদ্দিকীর চলে যাওয়া শুধু একটি মৃত্যুই নয়, এটি এক অধ্যায়ের অবসান। রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ঘনছায়া। সহযোদ্ধারা হারালেন এক অন্তঃপ্রাণ অনুপ্রেরণা, পরিবার হারিয়েছে এক নির্ভরতার শেষ আশ্রয়। কালিহাতীসহ সমগ্র টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বেদনার ভার। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, সবাই আজ নিঃশব্দে কাঁদছে তাঁর শূন্যতার সামনে।
আজ রাজনীতি হারালো এক নির্ভীক কণ্ঠ, সমাজ হারালো এক আত্মত্যাগী কর্মী। আর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী হারালেন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সাথীকে, প্রেরণার অবিনাশী উৎসকে।
ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায় ও অশ্রুজলে ভেজা শেষ সালামে, বিদায় বঙ্গবীরের প্রেরণাদায়িনী সাথী, কালিহাতীর অহংকার।










