
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উজ্জ্বল (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত উজ্জ্বল এলাকার মৃত ওসমান আলির ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ফ্লেক্সি ও ফটোকপির ব্যবসার পাশাপাশি একটি এনজিও’র সাথেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ই জুন রবিবার ভোররাতে হঠাৎ একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সকালে উজ্জ্বলের বাড়ির পাশে তার তৈরি একটি অস্থায়ী ঘরের ভেতর তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শেখ রকিবুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে জানান, “আমাদের ধারণা, উজ্জ্বল পারিবারিক কলহের জেরে অবৈধ পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।”
তবে এ দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা ও উজ্জ্বলের ঘনিষ্ঠজনেরা। তারা বলছেন, “উজ্জ্বল খুব ভালো মনের একজন মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব, দেনা-পাওনা কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এমন একজন মানুষ কেন আত্মহত্যা করবেন—তা মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া আত্মহত্যার জন্য অবৈধ অস্ত্র কেন ব্যবহার করা হবে?”একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “যেভাবে মরদেহ পড়ে ছিল, তাতে মনে হয় না এটি আত্মহত্যা। সম্ভবত কেউ তাকে গুলি করে পাশে পিস্তল ফেলে রেখে গেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।”স্থানীয়রা আরও জানান, উজ্জ্বলের স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও অভিভাবক। সম্প্রতি একটি জমি কিনে সেখানে একটি ছোট ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলেন। সেই ঘরেই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।স্থানীয়রা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।










