
হাদিসের ভাষ্য মতে, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
আজ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন সারা বিশ্ব থেকে জড়ো হওয়া লাখো মুসলমান।
গতকাল বুধবার মিনায় অবস্থান করেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তাঁরা মক্কা থেকে মিনায় আসেন। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেছেন। আজ ফজরের নামাজ পড়েই তাঁরা চলে আসেন আরাফাতের ময়দানে।
পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ।
মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে আরাফাতের ময়দানের অবস্থান।
তা দৈর্ঘ্যে দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থেও দুই কিলোমিটার। এই ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। এখানে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। এই ময়দানে উপস্থিত হাজিদের উদ্দেশে খুতবা দেওয়া সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানকার মসজিদে নামিরা থেকে বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন
এদিকে আজ আরাফার মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ; যা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে টানা ষষ্ঠবারের মতো এবার বাংলাসহ প্রায় ৩৪টি ভাষায় আরাফার খুতবা সম্প্রচার করা হবে। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করবেন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান।
আগামীকাল শুক্রবার (স্থানীয় সময় ১০ জিলহজ) মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি করে মাথা মুণ্ডাবেন। তখন ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন। সেখানে তাঁরা দুই দিন বা তিন দিন (১১ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) জামারায় (বড়, মধ্যম, ছোট) সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।