মোঃ তারেক রহমান শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি: গার্মেন্টস কর্মী মায়ের কাছে ঈদে খেলনার আবদার করেছিল ৬ বছরের ছোট্ট লামিয়া। পরে লামিয়ার নিথর দেহ নানার বাড়ির পাশে আ.লীগ নেত্রীর পরিত্যক্ত ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে ঘাতক। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুবায়ের, রিফাত ও আরাফাত নামের ৩ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ । জুবায়ের শিশুটির চাচাতো ভাই, রিফাত খালাতো ভাই ও আরাফাত মামা। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের ছোট বিন্নাদাইর গ্রামে। শিশু লামিয়া ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের নাতনী ও উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের নাজিম প্রামাণিকের মেয়ে। সে বিলকলমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্রী। তাকে নানার বাড়ি রেখে তার বাবা মা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গার্মেন্টসে চাকরি করে। সরেজমিনে আজ সকালে শাহজাদপুর উপজেলার ছোট বাঘাবাড়ি (ছোট বিন্নাদাইর) গ্রামের গেলে দেখা যায় শিশু লামিয়ার মা এবং স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার ভারি হয়ে গেছে। এসময় লামিয়ার মা আর্তনাদ করে জানায় লামিয়া ঈদে খেলানা ও নতুন জামা চেয়েছিল। লামিয়ার মা মিনা খাতুন জানান, লামিয়া ও রোজা মনি (২) কে বাবার বাড়ি মায়ের কাছে রেখে গার্মেন্টসে চাকরি করি। গতকাল রাত ৮টায় বাড়ি থেকে মোবাইলে জানায় যে লামিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমরা রাত আনুমানিক ১২ টায় বাড়িতে এসে দেখি পাশের আ.লীগ নেত্রী রুপা বেগমের পরিত্যক্ত বাড়িতে পুলিশ লামিয়াকে খুঁজছে। কিছুক্ষণ পরেই ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে আমার মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। এই বিষয়ে শিশু লামিয়ার অপর নানা ইউনুস আলী জানান, গতকাল আমরা বাড়ির সবাই জমিতে কাজ করছিলাম এসময় লামিয়া বাড়িতে একা ছিল। সন্ধ্যায় আমরা বাড়ি ফিরে লামিয়াকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেও কথাও পাইনি। পরে শাহজাদপুর থানায় নিখোঁজ জিডি করলে রাতে পুলিশ এসে খোঁজখবর নেয়। রাত আনুমানিক ২টায় বাড়ির পাশে অবস্থিত আ.লীগ নেত্রী রুপা বেগমের পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে শিশুটির পায়ের জুতা দেখে অনুসন্ধান চালিয়ে সেখান থেকেই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম আলী বলেন, ৬ বছর বয়সী শিশু লামিয়া নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়। পরে লামিয়ার নানার বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির লাশ রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর আলামত লুকিয়ে ফেলার জন্য শিশুটিকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।