আলমডাঙ্গার ১৮ ৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রেলস্টেশন বিশিষ্ট দ্বিতীয় তলা মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো। বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন এখন থেকে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনে নিয়মিতভাবে থামবে—এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের দাবির পর এ সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের বিজয়ের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।এটি ছিলো আলমডাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি। একসময় অনেক রাজনীতি, প্রতিশ্রুতি ও সভা-সেমিনার হলেও এই দাবির বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে"আলমডাঙ্গা নাগরিক কমিটি" গঠন করে আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়। এই ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনই পরিস্থিতিকে বদলে দেয়।আন্দোলনের সফল বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন মোল্লা এহসান, যিনি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও। তিনি আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সচিবালয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাতেই বেনাপোল এক্সপ্রেসের স্টপেজ অনুমোদন দ্রুত সম্ভব হয়েছে।স্থানীয়রা মনে করেন, এটি শুধু একটি ট্রেনের স্টপেজ নয়—এটি আলমডাঙ্গার প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রতীক। মোছা. রোজিনা খাতুন নামে এক স্কুলশিক্ষিকা বলেন, “রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী—সবার জন্য এটি বড় সুবিধা। আগে ট্রেন ধরতে চুয়াডাঙ্গা বা পোড়াদহ থেকে ছুটতে হতো। এখন নিজের শহর থেকেই ওঠা যাবে।” আলমডাঙ্গা বাজারের এক ব্যবসায়ী, হারুন-অর-রশীদ বলেন, “এই ট্রেন স্টপেজ মানে আমাদের পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে। দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীরা এখন সহজেই আলমডাঙ্গায় আসতে পারবেন। ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।”এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বোঝা গেল, জনসম্পৃক্ততা ও গণআন্দোলন থাকলে প্রশাসনিক কাঠামোও নড়েচড়ে বসে। সাধারণ মানুষের ঐক্যই যে পরিবর্তনের মূলশক্তি, আলমডাঙ্গা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।মোল্লা এহসান, তার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন,“আমি কৃতজ্ঞ আলমডাঙ্গাবাসীর প্রতি, যারা নির্ভয়ে নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এ জয় তাদেরই।”