
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামে প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তান জন্ম দিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন এক গৃহবধূ। আলোচিত এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ খাতুন। তিনি দাবি করেছেন, সদ্যজাত পুত্র সন্তানের পিতা আলমডাঙ্গা পশুহাটের স্বর্ণা মেডিসিন কর্নারের মালিক, কালিদাসপুর গ্রামের আব্দুল কাদের সবুজ। গত ২৯ মে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শাহনাজ খাতুন পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সন্তান জন্মের পরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। নবজাতকের মা হারদী বাগানপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলমের মেয়ে শাহনাজ খাতুন। প্রায় তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় একই গ্রামের মৃত আইজাল হোসেনের ছেলে প্রবাসী কালু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পরই কালু মালয়েশিয়ায় চলে যান এবং দীর্ঘ তিন বছর বিদেশেই অবস্থান করছেন। শাহনাজ খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “কালু বিদেশে যাওয়ার এক বছর পর আমার পরিচয় হয় সবুজের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং গত বছর সে আমাকে বিয়ে করে। আমি যখন গর্ভবতী হই, তখনও সবুজ বিষয়টি জানত। কিন্তু এখন সে পিতৃত্ব অস্বীকার করছে, ফোন ধরছে না, কখনো অন্য কেউ ফোন রিসিভ করে।” তিনি আরও দাবি করেন, “সবুজ আমাকে ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বিয়ে করেছে। শিশুটির পিতা সবুজ—এটা সে জানে এবং মানে। কিন্তু এখন সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।” এদিকে নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে একাই রয়েছেন শাহনাজ। তার সঙ্গে কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। অন্য রোগীদের খাবার ও কাপড়েই দিন পার করছেন মা ও শিশু। ঘটনার পর শুক্রবার শাহনাজ সন্তানসহ বাবার বাড়িতে ফিরে আসলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন। তারা সন্তানের পিতৃপরিচয় জানতে চান এবং পরে তাকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহনাজ খাতুন অতীতে দু’বার বিয়ে করেছিলেন। আগের পক্ষের একটি ৮ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। সেই সন্তানসহ তিনি প্রবাসী কালুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কালুরও আগের পক্ষের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত আব্দুল কাদের সবুজ। তিনি বলেন, “আমি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক এবং ৭ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। শাহনাজ খাতুন আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে অপবাদ দিচ্ছেন। আমি তাকে চিনিও না, কোনো বিয়ের কাবিন বা দালিলিক প্রমাণও নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও আমার সামাজিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য সাজানো।” তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই—আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত সবুজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।” এই ঘটনাকে ঘিরে হারদীসহ পুরো আলমডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সমাধান প্রয়োজন।










